বলিউডে নক্ষত্র পতন, দীপাবলির রাতেই প্রয়াত গোবর্ধন আসরানি

নায়ক নন, তবুও পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে সিনেপ্রেমীদের মনে দাগ কাটা সহজ নয়। এমন কঠিন কাজকেও সহজ করে দেখিয়েছেন গোবর্ধন আসরানি

পূর্ণেন্দু চক্রবর্ত্তী, সাংবাদিক : কিংবদন্তি অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা গোবর্ধন আসরানি, যিনি আসরানি নামে পরিচিত, ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে সোমবার মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। দীপাবলির সন্ধ্যায়, যখন সকলে লক্ষ্মীপুজোয় মগ্ন ছিলেন, তখন আসরানির মৃত্যুর খবরটি চমকে দেয় সকলকে। সোমবার দুপুর ৩টেয় মুম্বাইয়ের জুহুর আরোগ্য নিধি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আসরানি।

শোলে অভিনেতাকে সন্ধ্যায় সান্তাক্রুজের শাস্ত্রী নগরে তার ঘনিষ্ঠজন এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য করা হয়। একজন শিল্পী যিনি বিভিন্ন ভাষায় ৩০০ টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন, যিনি ৫৮ বছর ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে সক্রিয়। অমিতাভ বচ্চন, ধর্মেন্দ্র, রাজেশ খান্না সহ বড় বড় সুপারস্টারদের সাথে কাজ করেছেন, তাঁকে শেষ যাত্রায় সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হল। তার পরিবারের সদস্য ছাড়া শেষ যাত্রায় তেমন কাউকে দেখা যায়নি। বলিউডের কোনও তারকা তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন না। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আসরানি, এমন একজন তারকা যার উপস্থিতি প্রতিটি চলচ্চিত্রকে আলোকিত করেছিল। তিনি ছিলেন সেই বিরল কৌতুকাভিনেতাদের মধ্যে একজন যাঁকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য অশ্লীলতার কাছে নতি স্বীকার করতে হয়নি। আসরানি এতটাই বহুমুখী ছিলেন যে যেকোনও চরিত্রকেই দক্ষভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে বলিউডের যে বড় ক্ষতি হল তা বলাই বাহুল্য
গোবর্ধন কুমার আসরানি ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সেরা অভিনেতা। যিনি চিরকাল সহকারী অভিনেতা হিসাবেই কাজ করেছেন, তবুও নজর কেড়েছে তাঁর প্রত্যেকটি চরিত্র । ১৯৭০ এবং ৮০-এর দশকে এমন সিনেমা খুঁজে পাওয়া মুশকিল যেখানে আসরানি ছিলেন না ।

Film and Television Institute of India.-তে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন গোবর্ধন আসরানি। যাঁর প্রতিভা এবং সময়জ্ঞান ছিল দুর্দান্ত কিন্তু তিনি এমন এক যুগে হিন্দি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেছিলেন।
যখন নায়কের বৈশিষ্ট্য ছিল সুদর্শন, লম্বা, অভাবনীয় ব্যক্তিত্ব। সেখানে আসরানি ছিলেন অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতা সম্পন্ন, নায়কসুলভ নয়। ফলে নায়কদের চরিত্রে অভিনয় করতে পারতেন না তিনি। তবে নায়ক না হয়েও পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেও যে সিনেপ্রেমীদের মনে দাগ কাটা যায় তা প্রমাণ করে দিয়েছেন গোবর্ধন আসরানি।

শোলে , বর্তমানে তার 50 তম বছর উদযাপন করছে, শুধুমাত্র তার প্রধান চরিত্রগুলির জন্য নয় – ধর্মেন্দ্র , অমিতাভ বচ্চন , হেমা মালিনী, জয়া ভাদুড়ী, সঞ্জীব কুমার, ভিলেনের জন্য আমজাদ খানও গৌরবময়ভাবে অভিনয় করেছেন। শোলেতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসরানির “আংগ্রেজ কে জামানে কে জেলর” ডায়লগও বেশ পছন্দ করেছিলেন সিনেপ্রেমীরা। এছাড়া আধে ইধার জাও, আধে উধার যাও, অউর বাকি হামারে সাথ আও ডায়লগও মন কেড়েছিল দর্শকদের। ৩০০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
নেগেটিভ চরিত্রেও নিজের দক্ষতা ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তার মধ্যে অন্যতম- গুলজারের কোশিশ। চালা মুরারি হিরো বাননে ছবিতে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করলেও, তা সফল হয়নি। তিনি ছিলেন সেইসব বিরল কৌতুকাভিনেতাদের মধ্যে একজন যাঁকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য অশ্লীলতার কাছে হার মানতে হয়নি।