অবিশ্বাস্য ! অকল্পনীয় !

নিজস্ব সংবাদাতাঃ অল দ্যাট গ্লিটার্স ইজ নট গোল্ড। অর্থাৎ চকচক করলেই সোনা হয় না। সে না হয় হল। কিন্তু রূপোও আর ফেলনা নয়। সুয়োরানি হিসাবে সোনার এতদিনের দেমাক কার্যত একাই শেষ করে দিতে চলেছে রুপো। ২০২৫ সালে দুয়োরানির তকমা ঘুচিয়ে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে রুপো। শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই জাতে উঠেছে রুপো। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গোল্ড লোনের মতোই রুপোর গয়না, রুপোর কয়েন, রুপোর বারকে আগামী দিনে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক ও এনবিএফসি থেকে ঋণ নেওয়ার সময় বন্ধক রাখা যাবে। ২০২৬ সালের পয়লা এপ্রিল থেকে এই নিয়ম দেশজুড়ে কার্যকর হবে। যদিও ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সোনা ও রুপোর ক্রেডিট লিমিট, লোন টু ভ্যালু রেসিও ও ইন্টারেস্ট রেট আলাদা হবে। একথা বলতেই হবে, ২০২৫ সাল জুড়ে রিটার্ন দেওয়ার দিক থেকে সোনা, বিভিন্ন লগ্নি ইনস্ট্রুমেন্ট, বিটকয়েনকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে রুপো। এমনকি ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তরফে রুপোকে ২০২৫ সালের তালিকায় প্রেশাস গোষ্ঠীভুক্ত থেকে তুলে ক্রিটিক্যাল গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধাতু বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিশ্বে রুপোর বার্ষিক চাহিদার ৬০ শতাংশই লাগে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল খাতে। যে জন্য আগামী দিনে রুপোর দাম বর্তমানের আউন্স প্রতি ৫৮ ডলার থেকে বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ ডলারে চলে গেলে আশ্চর্যের কিছু হবে না।

ভারতে ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে অবিশ্বাস্য ১০৩ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে এই ধাতু। ফলে আরও ২০টি সংস্থার শেয়ারের সঙ্গে মাল্টিব্যাগার মুকুট মাথায় উঠেছে রুপোর। যে খেতাব এতকাল তার অধরাই ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এতটা রিটার্ন দিয়ে সোনাকে পিছনে ফেলে দিয়েছে রুপো। পয়লা ডিসেম্বর এক কেজির রুপোর দাম ছুঁয়ে ফেলে এক লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দাম। সেখানেই থেমে থাকেনি রুপোর ঊর্ধ্বগতি। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের শেষে ভারতে রুপোর দাম কেজিপ্রতি ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা ছুঁয়ে ফেলতে পারে এবং গতিপ্রকৃতি যেদিকে তাতে দু-লাখের গন্ডীও হয়তো নতুন বছরেই পার করে ফেলবে রুপো। আবার আর এক দল বিশেষজ্ঞের মতে, চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় বিশ্ব বাজারে রুপোর দামকে খুব শিগগিরই দু-লাখে পৌঁছে দিতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে ২০২৪ সালে রুপোর কেজি প্রতি সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা। সেই রুপোই ১২ মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ দামে পৌঁছে গিয়েছে। যা এককথায় অবিশ্বাস বলা চলে। অর্থ বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপোর দামের এই উত্থান বাজার সম্পর্কিত কাকতালীয় নয়। বরং চাহিদা ও জোগানের সেই গল্প। রুপো সরাসরি খনন করা হয় না। বরং দস্তা ও সিসার বাই প্রোডাক্ট বা উপজাত হিসাবে এটি উৎপাদিত হয়। এর অর্থ, এর সরবরাহ সীমিত, কিন্তু চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। তাই দাম বাড়াটাই তো স্বাভাবিক। এখানে একটা কথা মনে রাখা দরকার। অনেকের ধারণা, রুপো দিয়ে শুধু গয়নাই হয়। আসলে তা নয়। গয়নার পাশাপাশি সৌর প্যানেল, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ডিজিটাল ঘড়ি-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গ্যাজেটে রুপো ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন হল, একজন সাধারণ ক্রেতা হিসাবে আপনার কী করণীয়। দাম যেভাবে চড়ছে তাতে লগ্নি হিসাবে রুপোয় নজর দিতেই পারেন। আর একটা কাজ আপনাকে অবশ্যই করতে হবে। তা হলে চোরের নজর এড়ানো। কারণ চোরেরাও এখন রুপোয় মজেছে। রুপোর দাম কতটা চড়েছে সে খবর তারাও জেনে গিয়েছে। বিশেষ কোনও অনুষ্ঠানে গায়ে কতটা রুপোর গয়না চড়াবেন সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। ব্যুরো রিপোর্ট, আর প্লাস নিউজ।