৫২ তেই থামল কন্ঠ, গায়ক জুবিন গৰ্গের মর্মান্তিক মৃত্যু

এভাবেও মৃত্যু আসে! সিঙ্গাপুরে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী জুবিন গৰ্গ। শোকের ছায়া শিল্পী মহলে।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ এ যেন একেবারে সঙ্গীত শিল্পী কেকে-র মত ঘটনা। কলকাতায় গান গাইতে এসে তিনি ফিরেছিলেন গান স্যালুট নিয়ে। জুবিনও তাই। সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন গান গাইতে, কিন্তু সেই যাওয়াই কাল হল তাঁর, চিরতরে স্তব্ধ হল জুবিনের গলা। শুক্রবার সিঙ্গাপুরে নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে গান গাওয়ারও কথা ছিল তাঁর। কিন্তু অনুষ্ঠানের আগেই ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিপত্তি। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা শুরু হলেও আর জ্ঞান ফেরেনি তাঁর। তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

কিভাবে জুবিন গর্গের মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। একটা তথ্য বলছে তিনি প্যারাগ্লাইডিং করছিলেন,সেই সময় তাঁর প্যারাশুটে কোন বিপত্তি দেখা দেয় এবং তিনি সোজা গিয়ে সমুদ্রে পড়েন। আরেকটি তথ্য অনুযায়ী তিনি স্কুবা ডাইভিং করছিলেন। সেই সময় সমুদ্রের মধ্যেই দূর্ঘটনায় পড়েন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে মাঝ সমুদ্র থেকেই উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে, আইসিইউতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু হয় তাঁর। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত রকম প্রচেষ্টা সত্বেও কোন রকমেই আর জ্ঞান ফিরে আসেনি তাঁর। ইন্টারনাল ইনজুরি হয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। এর পাশাপাশি পাঁজরেও তীব্র আঘাত পেয়েছিলে জুবিন, দুর্ঘটনার পরেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি সেই জ্ঞান আর ফেরেনি।

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই ভীষণ ভাবে অসুস্থ ছিলেন তিনি। শোনা যেত মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানও করতেন, একবার একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে গানই গাইতে পারছিলেন না, এমন এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় কিন্তু তার পরেও জুবিনের গান ভালোবাসতেন সকলেই। হিন্দি সিনেমা গ্যাংস্টারের ‘ইয়া আলি’ তাঁর কন্ঠে এক আলাদাই মাত্রা পেয়েছিল। কিংবা রাজ চক্রবর্তীর সিনেমা চিরদিনই তুমি যে আমার, সেখানে জুবিনের গাওয়া ‘পিয়া রে..’ শুনে চোখ ভেজেনি খুব কম মানুষের, সেই গান আজও সুপারহিট, এছাড়াও আর অসংখ্য অগণিত গান তিনি উপহার দিয়েছেন সকলকে।

আসলে জীবনের থেকে বড় অনিশ্চিত আর কিছুই নেই সেই কথাকে সত্যি করেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন জুবিন। শুধু থেকে গেল তাঁর কন্ঠ, তাঁর উপহার দিয়ে যাওয়া ভীষণ ভালো কিছু গান।