এসআইআর আবহে ৩ বিজেপি নেতার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন! কার্টুন ব্যনার তৈরি করে প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেস। পাল্টা কটাক্ষ বিজেপি নেতৃত্বের।
মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যজুড়ে এসআইআর করার কথা ঘোষণা করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। সেইমতো প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন বিএলও, বিএলএ-২-রা। তবে গোড়া থেকেই এসআইআরকে নিয়ে এ রাজ্যে বিজেপি বিরোধী অলআউট প্রচারে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বাঁকুড়ায় সেই প্রচারেই নতুন মাত্রা যোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস। তিন বিজেপি নেতার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে কার্টুন ব্যনার ছাপিয়ে শহরের কোনায় কোনায় সাঁটিয়ে তা নিয়ে জোরদার প্রচার শুরু করল জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

এসআইআর কার্যকর হওয়ার পর বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রতিটি পরিবারের হাতে এনুমারেশান ফর্ম তুলে দিয়েছেন বিএলওরা। সেই এনুমারেশান ফর্মে প্রতিটি ভোটারকে লিখতে হচ্ছে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকা অংশ নম্বর, ক্রমিক নম্বর সহ একাধিক তথ্য। ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় ভোটারের নাম না থাকলে সেক্ষেত্রে ওই সালের ভোটার তালিকায় থাকা বাবা ও মা-র তথ্য ফর্মে দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ৩ বিজেপি নেতার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে রীতিমত কার্টুন ব্যনার তৈরি করে বিজেপি বিরোধী প্রচারে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। ব্যানারে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিক এবং বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জোড়াফুল শিবির। পোস্টারে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুল ডোজারে করে ওই তিন বিজেপি নেতাকে চাপিয়ে সীমান্তের কাঁটাতারের অপর পাড়ে ছুঁড়ে দিচ্ছেন।

বাঁকুড়ার পুরপ্রধানের দাবি এই রাজ্যে এসআইআর করে ২০০২ সালের তথ্য চেয়ে সাধারণ মানুষকে বিব্রত করছে বিজেপি। অথচ বিজেপির ওই তিন নেতার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই। তাঁদের বাবা ও মায়ের নামও নেই। এই বিষয়টিকেই সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। সেজন্যই এই ব্যনার নিয়ে প্রচারে নেমেছেন তাঁরা।

পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদারের কটাক্ষ, বিজেপি সারা বাংলা এবং ভারতবর্ষকে ধর্মশালা বলে মনে করে। কিন্তু আমরা জানি শুধুমাত্র বাংলায় যারা জন্মগ্রহণ করে তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। আমাদের একটাই বক্তব্য, বিজেপি এসআইআর নিয়ে যে চেঁচামিচি করছে, বাংলার কোনও জেলায় বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, নাম বাদ গেলে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করা হবে।

বিজেপিও পাল্টা তৃণমূল নেত্রী মমতা বালা ঠাকুর ও মধুপর্ণা ঠাকুরের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপির দাবি এসআইআর নিয়ে তৃণমূল অযথা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই বোঝা যাবে কে আসল, আর কে ভুয়ো নাগরিক। বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি দেবাশিস দত্ত জানাচ্ছেন, এই অপসংস্কৃতি আগেও দেখা গিয়েছে। আবারও হচ্ছে। একজন প্রাক্তন এবং একজন বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নামে অপপ্রচার করছে। মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার করছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বালা ঠাকুর ও মধুপর্ণা ঠাকুর, এরা কারা? এদেরও তো পিতৃপরিচয় দিতে গেলে তৃণমূলকে জবাবদিহি করতে হবে।