নাম বাদ গেলে কি করবেন? কোথায় যাবেন?

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : যাবতীয় অপেক্ষা শেষে অবশেষে পরীক্ষার ফলাফলা বেড়িয়েছে, গত কয়েক মাসে এসআইআর পরীক্ষাই হয়ে উঠেছিল , হিয়ারিংয়ে ডাকলে কি হবে ফাইনাল লিস্টে নাম থাকবে তো, সেখানে নাম না উঠলে কি হবে? ইত্যাদি প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়েছে বারবার, আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা গেল প্রায় ৬৫ লক্ষ মানুষ কিন্তু এই পরীক্ষায় কার্যত অনুত্তীর্ণ হলেন, এখনও অমীমাংসিতের তালিকায় বহু নাম রয়েছে অর্থাৎ এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে এবার প্রশ্ন উঠছে যাদের নাম বাদ গেল তারা কি করবেন? তারা কোথায় যাবেন? তারা কি ভোট দিতে পারবেন বিধানসভা নির্বাচনে? নাম কিভাবে লিস্টে উঠবে সেই নিয়ে জানতে চাইছেন সকলেই। কারণ ভোটার লিস্টে নাম না থাকাটা যথেষ্ট চিন্তার। এবং এই নাম তোলার যথাযথ প্রক্রিয়াই বা কি? আপনি জানেন কতদিনের মধ্যে এই কাজ করতে হবে?
দেখুন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কমিশনের ওয়েবসাইট কার্যত ক্র্যাশ করে যায় এখনও অনেক কারোরই সেই সমস্যা চলছে অর্থাৎ তারা আদৌ জানেন না নাম আছে কিনা? আবার অনেকে বুঝতে পারছেন না কিভাবে দেখবেন? মনে রাখবেন যদি সব তথ্য ঠিক থাকে, তবে সাধারণ ভাবেই নাম দেখা যাবে। যদি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হয়, তবে নামের পাশে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ লেখা থাকবে। আর নাম বাদ পড়লে সেটি ‘ডিলিটেড’ হিসেবে দেখানো হবে। আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ মানে কী? যেসব ভোটারের নাম বর্তমানে বিচারাধীন, তাঁদের তথ্য জেলা স্তরের বিচারকদের দ্বারা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডুপ্লিকেট নাম, তথ্যের অসঙ্গতি বা নথিগত গরমিলের কারণেই এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনে ভোটারদের আসল নথি নিয়ে সশরীরে হাজির হতে বলা হতে পারে। প্রথমে electoralsearch.eci.gov.in – এই ওয়েবসাইটে গিয়ে চেক করতে হবে, নাম উঠল কি না। নিজের এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করলেই নাম দেখতে পাবেন। এছাড়া মা-বাবার নাম দিয়েও সার্চ করতে পারবেন। যদি আগে থেকে ভোটার কার্ডের সঙ্গে আপনার ফোন নম্বর লিংক করা থাকলে আপনি ফোন নম্বর দিয়েও সার্চ করতে পারবেন। ধরুন এপিক নাম্বার জানেন না, সেক্ষেত্রে voters.eci.gov.in-এ গিয়ে download electoral roll এপিক নম্বর না থাকলে আপনার রাজ্যের ইলেকটোরাল রোল চেক করুন।
সেখানে গিয়ে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র, পোলিং বুথ দিয়ে সার্চ করুন। ইলেকটোরাল রোল ডাউনলোড করুন। নিজের পোলিং বুথ খুঁজে বের করে, তাতে নিজের নাম খুঁজে নিন। এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই মূল তথ্য, আশা করব এতক্ষণ যা যা স্টেপ বললাম সেটা আপনারা বুঝেছেন এবার যদি দেখেন নাম নেই আপনার, তখন কি করবেন? এক্ষেত্রে আপনার হাতে আছে দু থেকে তিনটি উপায়,
প্রথমত, নাম না থাকলে যদি আপনার নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকে, তাহলে আপনি কমিশনে আবেদন জানাতে পারেন। তালিকা প্রকাশ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে অর্থাৎ মার্চ মাসেই ১৫ তারিখের মধ্যে জেলাশাসক তথা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ডিইও)-র কাছে আবেদন জানাতে পারবেন। এই সময়সীমা কোন ভাবেই পার করা চলবে না।
দ্বিতীয় উপায়, ধরুন ডিইও যদি আপনার নাম তালিকায় না তোলার সিদ্ধান্ত জানান, তাহলে সেই সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করতে পারেন আপনি। সে ক্ষেত্রেও পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের চিফ ইলেকটোরাল অফিসারের কাছে আবেদন করতে পারবেন।
অর্থাৎ দু ক্ষেত্রেই আপনার হাতে সময়সীমা ১৫ দিন থাকছে তাই নাম তোলার ক্ষেত্রে এই সময়সীমাটা মাথায় রাখতেই হবে। এই নাম তোলার ক্ষেত্রে বিএলওরাও কিন্তু আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। voters. eci. gov.in-এর মাধ্যমে অথবা বিএলও-দের মাধ্যমে এই আবেদন জানাতে পারবেন। ডিইও-র মাধ্যমেও আবেদন জানাতে পারবেন। electoralsearch.eci.gov.in পোর্টালে আপনার এপিক নম্বর দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিএলও ও ডিইও-র নাম ও ফোন নম্বর দেখতে পাবেন।
এবার তিন নম্বর উপায়, ধরুন সিইও ও আপনার নাম খারিজ করে দিল, না হতাশ হবেন না, তখন আপনার কাছে থাকবে ফর্ম সিক্স, যদি সিইও আপনার আবেদন খারিজ করে দেয়, তাহলে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে আবেদন জানাতে পারবেন আপনি। অর্থাৎ নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম তোলার জন্য আবেদন করতে হবে। ১৮ বছর বয়স হয়ে গেলেই আপনি আবেদন করতে পারবেন। ECINET অ্যাপ বা পোর্টাল থেকে ফর্ম নিতে পারবেন। তারপর ফিল আপ করে বিএলও ও ইআরও-র কাছে জমা দিতে পারবেন। তবে ভোট কাছে এসে গেলে নিয়ম অনুযায়ী, একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আবেদন করতে পারবেন। যেখানে রয়েছে, সেখানে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের ১০ দিন আগে ফর্ম ৬ জমা দিতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে, মনোনয়ন জমার শেষ দিনের অন্তত ১০ দিন আগে ফর্ম ৬ জমা দিতে হবে।