SIRশেষ হওয়ার আগেই ভোট ঘোষণা ?

দেশের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের। চিঠিতে উল্লেখ, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি তথা আনম্যাপড ক্যাটাগরিতে সমস্যায় পড়া প্রায় ৫০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তিতে কমপক্ষে ৮০ দিন সময় লাগবে।

অনসূয়া দাস, সাংবাদিক : কথাতেই আছে দশে মিলে করি কাজ। হারি জিতি, নাহি লাজ। তবে এখানে হারা বা জেতার কোনও প্রশ্নই নেই। এখানে করতেই হবে। মানে ডু অর ডাই সিচুয়েশন। মাথার উপর একের পর এক চাপ। মানে বলা যেতে পারে। পরীক্ষার আগে শেষ মূর্হুর্তের প্রস্তুতি। ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর -এর চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। আবার অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে ভোট ঘোষণার সম্ভাবনা। সব মিলিয়ে বলা যেতে পারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পরিস্থিতি। এই অবস্থায় কী করা যেতে পারে। সামনে কী কী পথ খোলা রয়েছে ? অন্য রাজ্য থেকে কতটা সাহায্য নিতে পারে বাংলা? সাহায্যের জন্য অন্য রাজ্যের হাতেই বা কতটা সামর্থ্য রয়েছে ? কী রায় দিল শীর্ষ আদালত ? কবে নাগাদ হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের ভোট? সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই কি পশ্চিমবঙ্গের ভোট ঘোষণার সম্ভাবনা ? কতটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রাজ্যে বুথবিন্যাসের ক্ষেত্রে?

পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারকে নোটিস পাঠিয়েছিল। যার মধ্যে প্রায় এক কোটি ৪৮ লক্ষ মানুষ নথি জমা দিয়েছেন। কিন্তু যার মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ নথি এখনও যাচাই করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার দেশের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। তিনি চিঠিতে লেখেন লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি তথা আনম্যাপড ক্যাটাগরিতে সমস্যায় পড়া প্রায় ৫০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তিতে কমপক্ষে ৮০ দিন সময় লাগবে। এই ৮০ দিনের হিসাবটাও পরিস্কার ভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয় সেই চিঠিতে। বলা হয়, এসআইআরের কাজের মধ্যেই ২৫০ জন জেলা বিচারক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা এক একজন তথ্যগত অসঙ্গতি ও আনম্যাপড এর তালিকায় থাকা ৫০ লক্ষ ভোটারের নথি খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে যদি রোজ ২৫০ টি করে ফাইল দেখেন, তাহলে পুরো কাজ শেষ করতে ৮০ দিন সময় লেগে যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে শীর্ষ আদালত হাইকোর্টকে এক বিশেষ অধিকার দেয়। পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,সিনিয়র ও জুনিয়র ডিভিশনের দেওয়ানি বিচারকদের এসআইআরের কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে। তাঁদের অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে যদি দেখা গেল, এখানেও সমস্যার সমাধান হল না। তাহলেও অন্য পথও খুলে দেওয়া হল কলকাতা হাইকোর্টের সামনে। সুপ্রিম কোর্ট চাইছে সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হোক। তাই আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এই কাজে ভিন্‌রাজ্য থেকেও বিচারক নেওয়া যাবে। দুই প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারকদের পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এর কাজে আনা যাবে বলে জানানো হয়। ওই দুই রাজ্যের হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই বিষয়ে সাহায্য করার জন্যও অনুরোধ করা হয়। ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিদের সুপ্রিম কোর্ট অনুরোধ করে, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির কোনও আবেদন এলে তা সহানুভূতির সঙ্গে ও জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে।

কিন্তু অন্য রাজ্য থেকে যদি কোনও বিচারক আসেন, তাহলে ভাষাগত কোনও সমস্যা হতেই পারে। বাংলা ভাষা বুঝতে সমস্যা হতে পারে। তাহলে কীভাবে এই সাহায্য করা যাবে। ঠিক এই প্রশ্নই করেন রাজ্য সরকারের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, অন্য রাজ্য থেকে বিচারক এলে তাঁরা বাংলা বুঝতে পারবেন না। তবে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, এই অবস্থায় তাঁদের কিছু করার নেই। তিনি আরও বলেন, ইতিহাস বলছে এক সময় ওই রাজ্যগুলি একই প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ ছিল। তাই স্থানীয় উপভাষা বা ভাষার ধরন থেকে কিছুটা বুঝতে পারবেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, যাচাই প্রক্রিয়া হবে নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী। মানে ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে জমা পড়া নথিই গ্রহণ করা হবে। যে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হবে, তা-ও ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকা হিসাবেই ধরা হবে।

এসআইআরের কাজ শেষ না হওয়ায় কত ভোটার বাদ এবং যুক্ত হলেন, সেই হিসাব মিলছে না। রাজ্যে খসড়া তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলেও, এখনই ভোটারদের নাম বাদের হিসাব মিলবে না। এর ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রাজ্যে বুথবিন্যাসে। পশ্চিমবঙ্গে বুথের সংখ্যা ৮০,৬৮১। এসআইআর শুরুর আগে ভোটার অঙ্কে প্রায় ১৪ হাজার অতিরিক্ত বুথ তৈরির প্রয়োজনীয়তা ছিল। খসড়া তালিকায় ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ যাওয়ায় নতুন করে বুথবিন্যাস করার কথাও জানিয়েছিল কমিশন। কমিশনের তরফে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল রাজ্যে বুথবিন্যাস নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু ভোটার সংখ্যা স্থির না হওয়ায় বুথবিন্যাস হবে না। তবে বহুতলের জন্য ৬০-৭০টি অতিরিক্ত বুথ যুক্ত হতে পারে। এর আগে কমিশন জানিয়েছিল, ১২০০-র বেশি ভোটার থাকলে নতুন বুথ তৈরি করা হবে। এসআইআরের কাজ শেষ না হওয়ায় কত ভোটার বাদ এবং যুক্ত হলেন, সেই হিসাব মিলছে না। এই অবস্থায় আগের বুথের হিসাবই থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। যদিও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৮ তারিখের পরেও ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ করতে পারবে কমিশন। পরবর্তী কালে সেগুলিকেও চূড়ান্ত তালিকা হিসাবে ধরা হবে। ফলে মোট কত নাম বাদ গেল একেবারে সেই তালিকা ধরে হিসাব করতে হবে। সেই সঙ্গে কমিশন জানায়, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের আগেই ভোট ঘোষণা হতে পারে রাজ্যে। সিইও দফতরের তরফে জানানো হয়, আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে বুথবিন্যাসের পরিকল্পনা বাতিল করা হল। ৮০,৬৮১টি বুথই থাকছে রাজ্যে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এর কাজ শেষ না হওয়ায় বুথবিন্যাস করা হবে না বলে জানানো হয়।
ব্যুরো রিপোর্ট, আরপ্লাস নিউজ