এসআইআরের নামে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে সরকারি কর্মীদের গাছে বেঁধে রাখার নিদান বিধায়কের!
বিশ্বজিৎ নস্কর,নিজস্ব সংবাদদাতা : এসআইআর করতে এসে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিলে বেঁধে রাখার হুমকি সরকারি কর্মীদের। বাংলায় এসআইআরের নামে এন আর সি করলে বা বিহারের মত বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিলে বাংলায় রক্তগঙ্গা বইবে বলেও হুঁশিয়ারি দিলেন বিধায়ক। বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল এভাবেই এসআইআরের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন বাসন্তীর বিধানসভার বিধায়ক।

শনিবার এসআইআরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় বাসন্তীর সোনাখালি বাজারে। বাসন্তী ব্লক তৃণমূলের ডাকে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার দুই সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল ও বাপি হালদার, জেলা পরিষদের পূর্তের কর্মাধক্ষ্য তথা জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক জাহাঙ্গীর খান, বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল, ব্লক তৃণমূলের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান গাজী সহ অন্যান্য ব্লক নেতৃত্ব। এদিনও এসআইআরের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কোন একজন সঠিক ভোটারের নাম বাদ গেলে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কথা বলবে না বলে হুঙ্কার দেন নেতৃত্বরা। আর সেই মঞ্চেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে একের পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখেন বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল। তিনি বলেন, “ পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের নামে পরোক্ষভাবে এনআরসি করার চক্রান্ত চলছে। একটা ভোটার লিস্টে নাম থাকলে, সেটাই নাগরিকত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ২০০২ সাল থেকে ২০০৪ সালের ভোটে যারা ভোট দিয়েছেন, আজকে আবার কীসের এসআইআর ? সেই ভোটার তালিকাকে নাকি সংশোধন করার জন্য এসআইআর”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নাম না করে বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল আরও বলেন, ” দুই পাগলা রাজা আর ভন্ড জাদুকর তারা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে চাকরবৃত্তি করার জন্য পশ্চিমবঙ্গে পাঠিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন খাতের টাকা দিচ্ছে না। রাজ্য সরকারের প্রাপ্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা। পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা করছে। পশ্চিমবঙ্গের শান্ত মাটিকে অশান্ত করার জন্য চক্রান্ত করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের নাগরিকত্ব যাতে থাকে তার জন্য কখনও কলকাতায় কখনও দিল্লিতে গিয়ে লড়াই করছেন তাঁরা।”
যদিও এই বক্তব্যের পাল্টা দিতে ছাড়েনি বিজেপি নেতৃত্ব। এছাড়াও তিনি আরো হুঁশিয়ারি দেন যদি প্রকৃত ভোটারদের নাম যদি বাদ যায় তাহলে বাংলায় রক্ত গঙ্গা বইবে। এর পাশাপাশি বিহারের এস আই আর চালু হয় বহু প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করেন বাসন্তী বিধানসভার বিধায়ক। বিধায়কের এই মন্তব্যের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।