নিজের ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিলেন বাবা!

আজব কাণ্ড বসিরহাটের সন্দেশখালিতে

স্বাগতা চন্দ্র, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ আর কত কী যে দেখতে হবে। এসআইআরের চক্করে প্রতিদিনই ঘটনাবহুল। একের পর এক বাংলাদেশীদের পর্দা ফাঁস। এ দেশের নাগরিক হতে কেউ আশ্রয়দাতাকে মা সাজিয়ে ভোটার কার্ড তৈরি করেছে,  কেউ আবার শ্বশুরকে বাবা সাজিয়ে সরকারি নথি হাসিল করেছে। কোথাও মেসোমশাই হয়ে গেছে বাবা। এই সমস্ত উদাহরণের থেকেও এখন যে তথ্য আপনাদের দেবো আশা করি তাতে করে আপনার মাথা ঘুরে যাবে। অভাবের সংসারে কন্যাদায় গ্রস্ত বাবার অবাক কাণ্ড। বাংলাদেশের কুখ্যাত ডাকাতের সঙ্গে বিয়ে। এখানেই শেষ জামাইয়ের কীর্তি লুকাতে ও পরিচয় গোপন করতে বিরাট মিথ্যার আশ্রয়। জামাই নয় নিজের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন নিজের মেয়ের। এমনই দাবি এক বাবার। শুনুন তাহলে এই আজব গল্প। যা গল্প হলেও সত্যি।

বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের বোয়েরমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের মঠবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আশাকুল মোল্লা। তাঁর তিন মেয়ে তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। আর্থিক অনটনের সংসারে রোজই নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। দীর্ঘদিন ধরে অভাব অনটনের মধ্য দিয়েই চলছে সংসার। হঠাৎই হাজির হয় বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী কুখ্যাত ডাকাত সাইফুল মোল্লা। দারিদ্রের সুযোগে তার বাড়িতে আশ্রয় নেয় সে। বাড়ির বড়ো মেয়ের সঙ্গে বিয়েও হয়। তারপর নিজের শ্বশুরকে বাবা সাজিয়ে আই কার্ড আধার কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স পাসপোর্ট সহ সমস্ত নথিপত্র তৈরি করে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেয়।

এস আই আর আবহে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন তখনই জানতে পারা যায় সাইফুল মোল্লার বাড়ি বাংলাদেশে। সে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং এই এলাকায় ঘাঁটি গাড়ে। বাবা শ্বশুর আশাকুল মোল্লাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সঠিক উত্তর না দিতে পেরে বলেন সাইফুল তার নিজের সন্তান এবং তিনি নিজের মেয়ের সঙ্গে নিজের বড় ছেলের বিবাহ দিয়েছেন। নিজের কানেই শুনুন জামাই রাজাকে আড়াল করতে কী বলছেন শ্বশুড়মশাই।স্বামী বলছেন নিজের ছেলে । কিন্তু সত্যি কি চাপা থাকে। আসল সত্যিটা বেরিয়ে এল আশাকুল মোল্লার স্ত্রীর মুখ থেকে। এলাকাবাসীরা বলছেন সাইফুল বাংলাদেশের কুখ্যাত ডাকাত বিভিন্ন সামগ্রী সহ সোনার গহনা চুরি করে ভারতে প্রবেশ করে এবং এখানে এসে রাহাজানি করে বেড়ায় তারা চাইছেন বাংলাদেশের বাসিন্দা, বাংলাদেশেই যাক ভারতে তার স্থান নেই একপ্রকার তারা আতঙ্কে রয়েছে। কেননা সে কুখ্যাত সমাজবিরোধী। ভারতীয় শ্বশুর” চাপে পড়ে  জামাইকে নিজের ছেলে বলে চালাতে গিয়ে ল্যাজে গোবরে। কী করা যাবে দারিদ্রের মধ্যে পড়ে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার আর কী করণীয় থাকতে পারে। আশাকুলের দোষ অবশ্যই আছে তিনি তথ্য গোপন করেছেন। কিন্তু সবথেকে বড় দোষী হল ওদেশ আসা ধূর্ত মানুষ যারা এই দারিদ্রের সুযোগ নিয়েই নিজেদের কার্যসিদ্ধি করেছে।