SIR: মমতাকে আক্রমণ মেদীর

“ যারা নিজের রাজ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী, তারাই আবার নাকি আমাদের নীতিকথা শোনাচ্ছেন।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক:  “বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলিও নিজেদের সীমান্তে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। অথচ ভারতে কিছু রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী আদালতের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করে এই অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে।” নাম না করে তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো যেভাবে বিরোধিতার পথে নেমেছেন, এই পরিস্থিতিতে মোদীর দাবি অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই উঠে পড়ে লেগেছে বিরোধীরা। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা দেশের যুবসমাজের অধিকার ও রুজি-রোজগার কেড়ে নিচ্ছে এবং আদিবাসীদের ন্যায্য জমি দখল করে থেকে যাচ্ছে। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। হিংসার প্রবণতাও বেড়েই চলেছে। ঝুঁকির মুখে নারী নিরাপত্তা। নাম না করে এই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল সুপ্রিমোকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ যারা নিজের রাজ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী, তারাই আবার নাকি আমাদের নীতিকথা শোনাচ্ছেন।”

মোদী জানান, সংসদে বিরোধী দলের সাংসদদের বক্তব্য, তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। কিন্তু আলোচনার মান আরও অনেক উন্নত হতে পারত। তৃণমূল সাংসদদের বক্তৃতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের রাজ্যে পরিস্থিতি সংকটজনক হলেও সংসদে দাঁড়িয়ে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষ নিচ্ছেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “যুবসমাজ কীভাবে এই অবস্থান ক্ষমা করবে যখন তাদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে ? ”

প্রধানমন্ত্রী যখন রাজ্যসভায় জবাবি ভাষণ দিচ্ছেন, তখন টেবিল চাপড়ে ব্যাপক হইহট্টগোল শুরু করেন বিরোধীরা। বিরোধীদের স্লোগান ও ওয়াকআউটের মধ্যেই রাজ্যসভায় ভাষণ চালিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে ও বাম— এই সব দলই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, এনডিএ সরকার গত এক দশকে মূলত অতীতের সেই ভুলগুলোই সংশোধনের কাজ করে চলেছে।