SIR  থেকে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, কেন্দ্রকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী

CM Mamata Banerjee at Gangasagar: “যাদের বাঘ-কুমিরের হানা পেরিয়ে মাছ ধরতে যেতে হয়, কখনও আবার ওপার বাংলায় ভুল করে ঢুকে পড়ায় জেলে আটকে পড়তে হয়, তাদেরকে আমরা ছাড়িয়ে আনি। আর তোমরা বাবুরা শুধু ভোটারের নাম কাটো।“

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাসের মঞ্চ থেকেও কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে একের পর এক তির ছুঁড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও এসআইআর ইস্যুতে নাম কেটে মানুষকে হেনস্থা করায় কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধলেন, কখনও আবার ধর্ম নিয়ে রাজনীতির প্রতিবাদে সরব হলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা মিথ্যাবাদী লগ্নে জন্মগ্রহণ করে, তাদের তো সত্যবাদী বলা যায়। মিথ্যাচার, অত্যাচার, ব্যাভিচার এই নিয়ে ওরা ভালো থাকুক। শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন ধর্ম মানে ধারণ, মানবতা, পবিত্রতা, বিদ্বেষ নয়, শান্তি। যারা গীতা নিয়ে গীতাকে অপমান করে, তাদের বলি উন্নয়নের পাঁচালিকে যারা অপমান করছেন, তাতে কিছু যায় আসে না।  লক্ষ্মীর পাঁচালি,  বেদ বেদান্ত কখনও পড়েছো ? “

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে প্রায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। এর মধ্যে সাগরদ্বীপের মানুষও রয়েছেন। এসআইআরে নাম কাটার প্রতিবাদে আবারও সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যাদের বাঘ-কুমিরের হানা পেরিয়ে মাছ ধরতে যেতে হয়, কখনও আবার ওপার বাংলায় ভুল করে ঢুকে পড়ায় জেলে আটকে পড়তে হয়, তাদেরকে আমরা ছাড়িয়ে আনি। আর তোমরা বাবুরা শুধু ভোটারের নাম কাটো। আর কিছু করো না। আর কত বলিদান দিতে হবে ? “

কেন্দ্রের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ- “হোয়াটসঅ্যাপেই তো চলছে নির্বাচন কমিশন। আর ভ্যানিশ করছে মানুষের নাম ভোটার লিস্ট থেকে। মানুষের অধিকার ভ্যানিশ হলে আপনারাও ভ্যানিশ হবেন। সবাই নিজেদের নাম তুলবেন। নিজেদের অধিকার রক্ষার লড়াইটা করবেন। আমরাও আইনের সাহায্য নিচ্ছি। এত মানুষকে যেভাবে হেনস্থা করেছে, তার প্রতিবাদে সুপ্রিমকোর্টে মামলা করবো,“ হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন, “একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আদালতে গিয়ে দেখাবো কীভাবে তৃণমূল স্তরের মানুষজনকে হেনস্থা করা হচ্ছে। আপনাকে কেউ মারতে এলে আত্মরক্ষা করবেন।“

এতদিন ১০০ দিনের প্রকল্পের নাম ছিল মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপাওয়ারমেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট- ২০০৫। যা সংক্ষেপে মনরেগা নামে পরিচিত। কিন্তু কেন্দ্র মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দিয়ে করা হয়েছে জিরামজি। যার নিয়ে ইতিমধ্যে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। উত্তাল হয়েছে সংসদের অধিবেশন। গঙ্গাসাগর সেতুর উদ্বোধনে এই নিয়েও কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “১০০দিনের কাজ ছিল গান্ধীজির নামে। সেটাও তুলে দিয়েছে। ওরা বর্জন করেছে। আমরা গান্ধীজির নামকে রেখে দিয়েছি। কর্মশ্রীর নামকরণ করা হয়েছে মহাত্মাশ্রীর নামে। “

বাংলাকে অপমানের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তোমরা বাংলাকে অপমান করো, তোমরা বাঙালি অস্মিতাকে অপমান করো। যে ভাষায় মা বলতে শিখেছি। তাকে অপমান করো। তবে মনে রেখো- নাসা থেকে ভাষা একটাই আশা। ভবিষ্যৎ বাংলা, এটা মাথায় রেখো।“

এরই পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা নির্বাচনী প্রচারের আবহে গঙ্গাসাগরকে ঘিরে বাংলাকে বদনাম করার চেষ্টা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে, কোথাও টুক করে যদি বদনাম করা যায়। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশে নিয়ে তো বদনাম করতে পারে না। কারণ ওখানে বিজেপির সরকার।“

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা- “এখন এআই বেরিয়েছে। অনেক সময় আমার ছবি দেখিয়ে অনেক মিথ্যা প্রচার করে। ঠিক-ভুলটা আপনাকেই বুঝে নিতে হবে। বিজেপি করতে পারে না এমন কোনও কাজ নেই।“