SIR: রাজ্যের ভূমিকায় চরম ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আদালতের নির্দেশের পর রাজ্য প্রশাসন সহযোগিতা করবে বলেই প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই সহায়তা মেলেনি।”

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ ঘিরে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে চলা টানাপোড়েনের জেরে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিটি জেলায় বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

আদালতের ভর্ৎসনা

এদিন প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, আদালতের নির্দেশের পর রাজ্য প্রশাসন সহযোগিতা করবে বলেই প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু বাস্তবে সেই সহায়তা মেলেনি। নির্বাচন কমিশনের তরফে অভিযোগ করা হয়, অতিরিক্ত কর্মী চাওয়া হলেও রাজ্য সরকার বিষয়টি ‘বিবেচনাধীন’ বলে ঝুলিয়ে রেখেছে। এই প্রেক্ষিতে আদালত জানিয়ে দেয়, রাজ্য কর্মী না দিলে কমিশন বাইরে থেকে কর্মী আনতে পারবে। প্রয়োজনে অন্য রাজ্যের আইএএস আধিকারিক বা প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়োগের কথাও উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।

বিচারবিভাগীয় নজরদারি

অচলাবস্থা কাটাতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিটি জেলায় বর্তমান বিচারিক আধিকারিক ও অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। তাঁরাই তথ্যগত অসঙ্গতি যাচাই করবেন এবং তাঁদের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হিসেবেই গণ্য হবে। শনিবার এই বিষয়ে হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে মুখ্যসচিব, ডিজি ও কমিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেন।


আইনশৃঙ্খলা ও সময়সীমা
কমিশনের অভিযোগ, রাজ্যে তাদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়া হচ্ছে। আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে রাজ্য পুলিশের ডিজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। পাশাপাশি শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সময় বৃদ্ধির আর্জি খারিজ করে দেয় আদালত।

এসআইআর ঘিরে তৈরি হওয়া এই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।