রাখঢাক না করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট পলাশের

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ লাইফের ক্রিজে পলাশকে বোল্ড আউট স্মৃতির। হিট উইকেটের জবাব দিলেন স্মৃতি মান্ধানা। জল্পনা চলছিলই আর সেটাই সত্যি হল। স্মৃতি পলাশের বিয়ে স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল যে আদৌ কি আর চারহাত এক হবে তাদের? একের পর এক ঘটনা যেভাবে এগিয়েছিল তাতে করে কমবেশী সকলের মনে সন্দেহ জাগছিল এই সম্পর্কটা থাকবে? স্মৃতি চলে গিয়েছিলেনে একেবারে অন্তরালে, হয়ত বা নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন আজকের এই দিন এই ঘোষণার জন্য, অবশেষে সেই দুঃস্বপন সত্যি হয়ে গেল, স্মৃতি এবং পলাশের স্থগিত হয়ে যাওয়া বিয়ে ভেঙে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে সবটা স্পষ্ট করলেন তিনি। রবিবার নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে পোস্ট করা বিবৃতিতে স্মৃতি লিখেছেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিডিয়ায় আমার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে নানা ধরনের অজানা ও বিভ্রান্তির খবর ছড়িয়ে পড়েছে। এই কারণে আমার মনে হল, আমার নিজেরই সঠিক তথ্যটা প্রকাশ করা উচিত। আমার জীবনকে ব্যক্তিগত রাখতেই পছন্দ করি। তবে, এই মুহূর্তে কোনও রাখঢাক না করেই বলতে চাই, যে বিয়ে বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান সকলকে অনুরোধ জানাই, এসময়ে আমাদের গোপনীয়তাকে সম্মান করুন। দুই পরিবারকেই একটু সময় দিন।’ স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছেন, দেশের হয়ে এখনও অনেক ক্রিকেট বাকি রয়েছে তাঁর মধ্যে। বাকি রয়েছে আরও অনেক ট্রফি জেতা। আপাতত সেখানেই মন দিতে চান বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার।

অন্যদিকে প্রাক্তন প্রেমিকার দেখাদেখি, পলাশ মুচ্ছল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁর এবং স্মৃতির মধ্যে আর কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আমরা এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং পারস্পরিক সম্মতিতে এক ধাপ পিছিয়ে এসেছি।” যদিও এই সম্পর্ক ভাঙার নির্দিষ্ট কারণ তিনি জানাননি, তবে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে পারস্পরিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণভাবে নেওয়া হয়েছে। পলাশ তাঁর বক্তব্যে স্মৃতির প্রতি কোনও বিদ্বেষ বা অভিযোগ প্রকাশ করেননি। তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা যখন এই সব বিষয় নিয়ে চিন্তা করি, তখন বিশ্বের বহু মানুষ আরও চরম পরিণতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আমার দল মিথ্যা ও মানহানিকর বিষয়বস্তু প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে।’ ওই বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, তিনি চান এখানেই বিষয়টির ইতি টানা হোক এবং সবাইকেও একই অনুরোধ করেন। একটা রুপকথার মত বিয়ে এক নিমেষে বদলে গিয়েছে এক ভয়াবহ দুঃস্বপনে। স্মৃতির বাবার অসুস্থতার দারুণ প্রথমে স্থগিত হয় বিয়ে আর এরপর যা ্যা ঘটেছে তার সবটাই আপনারা জানেন। ভাইরাল হয়েছে পলাশের চ্যাট, পলাশের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে একাধিক মহিলার। সাম্প্রতিক সময়ে এটাই ছিল দেশের সবচেয়ে চর্চিত বিয়ে। কিন্তু সেই বিয়ে তো এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গিয়েছে, শুরুতেই নিজের ইনস্টাগ্রামে বিবৃতি দিয়ে গায়িকা পলক মুচ্ছল জানিয়ছিলেন, আপাতত বিয়ে স্থগিত রাখা হয়েছে। এই কঠিন সময়ে সকলে যেন পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান করেন। যদিও জল্পনা কিন্তু মেটেনি, কারণ সকলেই জানতে চাইছেন কবে চারহাত এক হবে তাদের? বিয়েটা স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর থেকে একবারও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি স্মৃতিকে, তিনি চলে গিয়েছিলেন অনতরালে, তবে সেই স্বেচ্ছা কারাবাস ভেঙে অবশেষে দেখা পাওয়া গিয়েছিল স্মৃতির।

বিয়েটা কি আদৌ হবে তাদের? এই নিয়ে চর্চা অব্যাহত থাকলেও তার কোন সদুত্তরমেলেনি, সকলেই কার্যত মুখে কুলুপ এটেছেন তবে প্রকাশ্যে এসে তার সঙ্গে পলাশের সম্পর্ক নিয়ে একটা বড় আভাস কিন্তু কার্যত পাওয়া গিয়েছিল স্মৃতির কাছ থেকে বলাই বাহুল্য সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়। ইনস্টাগ্রামে তিনি একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায় সাদা পোশাকে তিনি সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। তাঁরসঙ্গে রয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়ও। সেটা অবশ্য বিজ্ঞাপনের ভিডিয়ো। কিন্তু ভিডিয়োতে স্মৃতিকে দেখার পর নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কারণ, ভিডিয়োতে স্মৃতির হাতে নেই মেহেন্দি ও আঙুলে নেই আংটি। আর সেখান থেকেই অনেকেই প্রশ্ন তোলেন তাহলে কি সত্যি সত্যি ভেঙে গেল বিয়ে? কেন এনগেজমেন্টের চিহ্ন নেই স্মৃতির হাতে? অনেকে বলেছিলেন এই ভিডিও বিশ্বকাপ জয়ের ঠিক পরেই, অনেকেই হয়ত জানেন না স্মৃতি এই মুহূর্তে ভারতের অন্যতম ধনী ক্রিকেটতারকা। বিসিসিআইয়ের স্মৃতির সঙ্গে চুক্তিপত্র রয়েছে, তাতে তিনি বাৎসরিক ৫০ লাখ টাকা পান। এ ছাড়াও টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য ম্যাচপ্রতি পান ১৫ লক্ষ টাকা। ওয়ান ডে অর্থাৎ একদিনের খেলায় ম্যাচপ্রতি ৬ লক্ষ টাকা পান।

এ ছাড়াও উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগেও তিনি বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলেন। সেখানে তাঁর দর ওঠে ৩.৪ কোটি টাকা। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের জন্য তাঁর পারিশ্রমিক ঘোরাফেরা করে ৫০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকার মধ্যে। সব মিলিয়ে তাঁর বার্ষিক আয়ের পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটির কাছাকাছি। মোট সম্পত্তির হিসাব করলে সেই পরিমাণ আরও বেশি। পলাশ তেরে বিন্ লাদেন, সুইটি ওয়েড্স এনআরআই ছবিতে সুর করেছেন। এ ছাড়াও অরিজিৎ সিংহ ও তাঁর বোন পলকের গাওয়া তু হ্যায় আশিকি গানের সুরকার তিনি। তবে সুরকার হওয়ার আগে অভিনেতা হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পলাশ। কিন্তু সাফল্য পাননি। অর্থাৎ পলাশের থেকে অনেক অনেক বেশী সফল হয়েও স্মৃতি কিন্তু ভালোবেসেছিলেন পলাশকেই, তাকে নিয়েই জীবনের ইনিংস খেলতে চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন একটা দুরন্ত পার্টনারশিপ হবে দুজনের কিন্তু পলাশ! স্মৃতি যখন ব্যস্ত দেশের মুখোজ্জ্বল করতে পলাশ তখন অন্য মেয়ের সঙ্গে সাতার কাটতে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করছিলেন স্মৃতি যখন পলাশকে নিয়ে স্বপ্পনে বিভোর ছিলেন পলাশ তখন বলছেন এই লং ডিসট্যান্সরিলেশনশিপে তিনি নাকি ভালো নেই, নিজেকে একটু সময় দিয়ে যথাযথ স্পোর্টসম্যান স্পিরিটই দেখালেন স্মৃতি এটা বলাই যায় কারন যে হাতে বিশ্বকাপ ওঠে, সেই হাতে এমন কোন হাত থাকতে পারে কি যে নাকি ভালোবাসার মর্যাদা রাখে না? অন্তত ঘটনারা তো সেই কথাই বলছে, তাই আজকের এই সিদ্ধান্ত নিতে স্মৃতিকে নিশ্চয়ই অনেকটা কঠোর হতে হয়েছে অনেক ভাঙ্গতে হয়েছে নিজেকে কিন্তু তিনি একজন খেলোয়াড় তিনি জানেন ভেঙে পড়লেও উঠে দাঁড়াতে নিজেকেই হবে আর তাই আজ থেকে এক অন্য লড়াই শুরু স্মৃতির, ঘুরে দারানোর লড়াই মুভ অনের লড়াই ।