গ্রেফতার সোনম ওয়াংচুক, তবে হিংসায় উস্কানির কারণে নয়!

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: যুব সমাজের আন্দোলনের চাপে ক্ষমতার রদবদল হয়েছে বাংলাদেশ এবং নেপালে। তার সাক্ষী থেকেছে গোটা বিশ্ব। ক্রমশ সেই পথেই যাচ্ছিল লাদাখের পরিস্থিতি। পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ার আগে রাশ টেনে ধরল প্রশাসন। লাদাখে অশান্তি এবং প্রাণহানির ঘটনার তিন দিনের মাথায় গ্রেফতার করা হল ইঞ্জিনিয়র, গবেষক এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা রুজু হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে লাদাখ পুলিশের ডিজি এসডি সিংহ জামওয়ালের নেতৃত্বে সোনম ওয়াংচুকের লেহর বাড়িতে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ সোনমের সংস্থা স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ -এর এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল। এ বার সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হল তাঁকে।

 লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা এবং পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল লাদাখে। বুধবার অগ্নিগর্ভ আকার নেয় সেখানকার পরিস্থিতি। প্রশাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী। অভিযোগ তখনই লেহর বিজেপির পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পার্টি অফিসের সামনে থাকা পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। হিংসায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় সোনম ওয়াংচুকের উস্কানি ছিল বলে বৃহস্পতিবারই জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শুক্রবারই গ্রেফতার করা হল তাঁকে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল লাদাখের ওই হিংসার মামলায় নয় বরং অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করা হল সোনমকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে লেহতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোনমের সংস্থা হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস লাদাখ এবং স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশি অনুদান নেওয়ার অভিযোগে সেপ্টেম্বরেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্র। সোনম জানিয়েছেন,  মাত্র ১০ দিন আগে সিবিআই-এর তদন্তকারী দল সরকারি নির্দেশনামা নিয়ে তাঁর কাছে এসেছিল। সত্যিই কি সোনমের সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হল? নাকি লাদাখে প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করায় অন্য কারণ দেখিয়ে গ্রেফতার করা হল সোনমকে ? সেই প্রশ্নই তুলছেন গবেষক তথা সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুকের অনুগামীরা।