মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তো চিনে গিয়েছিলেন। স্বামী সোনম ওয়াংচুককে গ্রেফতার এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মুখে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এমনই বললেন স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো।

লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা সহ একগুচ্ছ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল লাদাখে। আন্দোলন বড় আকার নেয়, মৃত্যু হয় ৪জনের। প্রায় ৯০জন জখম হয়েছেন। এই আবহে গ্রেফতার করা হয় সোনম ওয়াংচুককে। সোনম আপাতত রাজস্থানের যোধপুরের জেলে বন্দি রয়েছেন। লাদাখের ডিজিপি এসডি সিং জামওয়াল দাবি করেছেন, সোনম ওয়াংচুকের পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যোগ রয়েছে। লাদাখের পুলিশকর্তা দাবি করেছেন যে, লেহ-এর হিংসা ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’-এর মাধ্যমে পরিচালনা করেছেন সোনম। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ২৪শে সেপ্টেম্বরের হত্যাকাণ্ড বিদেশী শক্তির দ্বারা প্ররোচিত হতে পারে। লেহ-তে সংবাদ সম্মেলন করে লাদাখ পুলিশের ডিজিপি এসডি সিং জামওয়াল বলেন, ২৪শে সেপ্টেম্বর লেহতে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়াংচুক-সহ ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান সোনম ওয়াংচুককে সহিংস বিক্ষোভের ‘প্রধান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন এনএসএ-র অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাতেই বেজায় চটেছেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি। তিনি হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভ লার্নিং অর্থাৎ এইচআইএলের প্রতিষ্ঠাতা। সোনমের বিরুদ্ধে বিদেশি ফান্ডিং নিয়ে ওঠা অভিযোগকে নস্যাৎ করে গীতাঞ্জলি পুরো হিংসার জন্য সিআরপিএফকে দায়ী করেছেন। পাল্টা তাঁর প্রশ্ন, লাদাখবাসীর উপর কেন গুলি চালানো হল?

পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে গীতাঞ্জলি বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর লেহ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে তাঁর পৈতৃক গ্রাম থেকে ওয়াংচুককে আটক করা হয় এবং হুড়োহুড়ি করে রাজস্থানের যোধপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে ফোনে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যোধপুরে নামার পরপরই স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ফোনে স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি তিনি। যে ধরণের অভিযোগ সোনমের উপর তোলা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। যোধপুর জেলে তাঁকে একটি একক সেলে রাখা হয়েছে, যেখানে সারাক্ষণ সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারি চলছে। তবে এই খবরের সত্যতা যাচাই করার উপায় নেই গীতাঞ্জলির কাছে। তিনি বলেন—ওঁর আন্দোলন সম্পূর্ণ গান্ধীবাদী ছিল। সত্যাগ্রহ, পদযাত্রা, শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন হচ্ছিল। অথচ তাঁকেই গ্রেফতার করা হল। তার উপরে এনএসএ চাপানো হল। গীতাঞ্জলির অভিযোগ, লাদাখে ষষ্ঠ তফসিল এবং রাজ্যের মর্যাদা দাবি করার কারণে সরকারি স্তরে একের পর এক চাপ আসছিল। আমরা আঁচ করতে পেরেছিলাম যে সোনমকে লাদাখ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। যাতে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে পারেন। কিন্তু একজন দেশপ্রেমিক, যিনি সেনাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করেছেন, চিনা বই ও সামগ্রী বর্জনের ডাক দিয়েছেন, তাঁকেই দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে। বিজেপি ষষ্ঠ তফসিলের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার কারণে মানুষ ওদের ভোট দেবে না, তা ভালোই জানতো ওরা। সেজন্যই সোনমকে সরিয়ে দেওয়া হল। সোনম ছিলেন মানুষের কণ্ঠস্বর, মানুষের প্রতিনিধি। এইভাবে মানুষের লড়াইকে দমানো যাবে না। বরং আন্দোলন আরও দৃঢ় হবে। সবমিলিয়ে লাদাখবাসীর দাবি কি পূরণ হবে, সোনম ওয়াংচুককে কবে লাদাখে ফেরানো হবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।