দক্ষিণে ফের সীমানা-আসন নিয়ে উদ্বেগ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আন্তঃরাজ্য জলবণ্টন নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিবাদ মেটাতে এ বার আলোচনার পথে হাঁটার ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার ৩১তম দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠকে শাহ বলেন, জলশক্তি মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, আন্তঃরাজ্য পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে নিয়ে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে।
শাহর বক্তব্য, নিজেদের রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করা অন্যায় নয়। কিন্তু সেই কারণে বছরের পর বছর কোনও রাজ্য জলবঞ্চিত থাকবে, অথচ সেই জল শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে গিয়ে পড়বে—এমন পরিস্থিতিও গ্রহণযোগ্য নয়। ব্রহ্মপুত্র, কাবেরী এবং গোদাবরীর মতো বড় নদীগুলিকে সংযুক্ত করার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর দাবি, নদী সংযোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী ১০০ বছর দেশে জলসঙ্কট এড়ানো সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি জলপথ তৈরি, জ্বালানি খরচ কমানো এবং কম ব্যয়ে পরিবহণের সুযোগও তৈরি হবে।
দক্ষিণের পাঁচ রাজ্য—অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, কেরল, তামিলনাড়ু ও তেলঙ্গানা এবং তিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নিয়ে গঠিত এই পরিষদের বৈঠকে জলবণ্টনের পাশাপাশি লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গও উঠে আসে। কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর দাবি, আগামী ২৫ বছর লোকসভায় ৫৪৩টি আসনের বর্তমান সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা হোক। কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার ১৯৭১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করে ডিলিমিটেশনের দাবি জানান। তামিলনাড়ুর বক্তব্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলিকে আসন পুনর্বিন্যাসের নামে রাজনৈতিক ভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।
কাবেরী নদীর উপর মেকেদাতু বাঁধ নিয়েও আলোচনা হয়। শিবকুমারের দাবি, তামিলনাড়ুর স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই প্রকল্পটি এগোনো হবে। তবে তামিলনাড়ুর মন্ত্রী জানান, কাবেরী জলবণ্টন বা ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিষয় বৈঠকে আলোচনা হয়নি।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু কুপ্পম হয়ে অন্ধ্র, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুকে যুক্ত করে বুলেট ট্রেন করিডরের প্রস্তাব দেন। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন তোলেন মুল্লাপেরিয়ার বাঁধের প্রসঙ্গ। নতুন বাঁধ তৈরি হলে তামিলনাড়ুকে তার প্রাপ্য জল দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি।
তেলঙ্গানা কৃষ্ণা নদীর জলের অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। অন্ধ্র ও তেলঙ্গানাও সম্পত্তি ও দায় ভাগাভাগির বকেয়া সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে মেটাতে সম্মত হয়েছে। ফলে জল, উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব—তিন ক্ষেত্রেই দক্ষিণের রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয়ের বার্তা দেওয়া হলল এই বৈঠকে।