“ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে বিরোধী দলনেতা ?”

বিধানসভার স্পিকার কর্তৃক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক কীভাবে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পেলেন? প্রশ্ন তুললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই অধ্যক্ষের নির্দেশে স্থগিতাদেশ চান তিনি।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাহলে কেন তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সনের নির্দেশ অমান্য করে একজন সাসপেন্ডেড বিধায়ককে বিরোধী দলনেতার আসনে স্বীকৃতি দেওয়া হল ?

বিধানসভার স্পিকার কর্তৃক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি শোনার পর বিচারপতির প্রশ্ন, দল যদি তাকে বহিষ্কার করে থাকে তাহলে তিনি কীভাবে বিরোধী দলনেতার পদ পেলেন ? ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করার পরে কোনও নোটিশ ইস্যু করেননি অধ্যক্ষ, কেন প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মামলার শুনানি মুলতুবি করেছেন। রাজ্য সরকার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সংক্ষিপ্ত হলফনামা দাখিল করতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন যে, স্পিকার কীভাবে এমন একজনকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিয়োগ করলেন যিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন ?
তিনি যুক্তি দেন যে, স্পিকারের নিয়োগের দিন শোভনদেব বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্পিকারকে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রীও অন্যান্যদের পাশাপাশি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
হঠাৎ করেই কীভাবে স্পিকার এমন একজনকে নিয়োগ করলেন যিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত?
তাঁর মতে, স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত বেআইনি এবং বিধানসভার বিধিসম্মত নয়।
অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল (AAG) বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে হলফনামা দাখিলের মধ্যে দিয়ে স্পিকারের বক্তব্য আদালতে তুলে ধরতে চান। সেই কারণে আদালতের কাছে কিছু সময় চেয়ে নেন অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল।
আদালত সেই আবেদনও মঞ্জুর করে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬ই জুন।