ওঁরা বিশেষ, তাই প্রতিমা দর্শনের বিশেষ আয়োজন!

সুপ্রিয় বসাক, নিজস্ব সংবাদদাতা: পুজোর কটাদিন জমিয়ে ঠাকুর দেখা, মণ্ডপে মণ্ডপে আলোর রোশনাই, ভালোমন্দ খাওয়াদাওয়াটাই তো সবচেয়ে মজার। সারাবছর সেজন্যই তো এই দিনগুলোর দিকে মুখিয়ে থাকেন আট থেকে আশি সমস্ত মানুষজন। কিন্তু বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা এই সুখ থেকে বঞ্চিতই থেকে যান। সেজন্য অভিনব উদ্যোগ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষজনকে টোটোয় করে প্রতিমা দর্শনের সুযোগ করে দেওয়া হল।

পুজোর আবহে ভিড়ের চাপে সুস্থ স্বাভাবিক মানুষও প্রতিমা দর্শন করতে গিয়ে হিমশিম খান। আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের কথা তো বাদই দিন। পরিবারের সদস্যরাও ভিড়ের মধ্যে তাদের পূজা মন্ডপে নিয়ে যেতে পারেন না।  তাই জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের পূজা মন্ডপে ঘুরে বেড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।  ধূপগুড়ি শহরের একাধিক পুজো মন্ডপ ঘুরে দেখলেন বাপি আলম, প্রমিলা রায়, অতুল সরকার, রতন শীলরা। কেউ চোখে ঠিকঠাক দেখেন না। কেউ আবার পায়ে জোর পান না। কেউ সমানভাবে পা ফেলতে পারেন না, কারোর দুটো পাই ব্যাঁকা। পথচলার জন্য সম্বল লাঠি, কারোর আবার হাতে জোর নেই। এমনই বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের পুজো যাতে মাটি না হয়, তার উদ্যোগ নিল তৃণমূল কংগ্রেস।

রীতিমতো তাঁদের হাত ধরে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘোরালেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নেতা দীপক, নিবারণ, রসিদুল, নবিউলরা। শুধুমাত্র বিভিন্ন পুজামন্ডপ ঘোরানো নয়, পাশাপাশি তাদেরকে বিরিয়ানি খাওয়ানোর ব্যবস্থাও করা হয়। তাদের হাতে নতুন পোশাকও তুলে দেওয়া হয় ধূপগুড়ি গ্ৰামীণ ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। এবিষয়ে ধূপগুড়ি গ্ৰামীণ ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা শিক্ষক ধরণী রায় বলেন,”জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি রামমোহন রায়ের নির্দেশে আমরা বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৩০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের হাত ধরে পুজোমন্ডপ ঘুরে দেখালাম।”

উপচে পড়া ভিড়ে সুস্থ স্বাভাবিক মানুষও প্রতিমা দর্শন করতে যেতে ভয় পান। এহেন পরিস্থিতিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য এমন উদ্যোগের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।