এসএসসির খামখেয়ালির শিকার শিক্ষাকর্মী, তীব্র ভর্ৎসনা বিচারপতি অমৃতা সিনহার।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : স্কুলে শূন্য পদ নেই। তা সত্বেও সবকিছু জেনেশুনে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর ও জেলা স্কুল পরিদর্শক সেই স্কুলেই নিয়োগের সুপারিশ দেন বলে অভিযোগ।
বীরভূমের বাসিন্দা পার্থ সারথী দলুইকে গত ২০১৩ সালে গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ছিল ১০০ কিলোমিটার। ২০২০ সালে শারীরিকভাবে নিজের অসুস্থতা এবং স্ত্রীর কিডনির সমস্যার কারণে কাছাকাছি যেকোনও স্কুলে বদলি চেয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরের কাছে আবেদন করেন। এসএসসি সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখে তাকে বাড়ির কাছেই একটি স্কুলে যোগদানের নির্দেশ দেয়।
মামলাকারী সেই স্কুলে যোগ দিতে গেলে তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, “স্কুলে কোন শূন্য পদই নেই। হতাশ পার্থসারথি ডি আই এবং এসএসসি চেয়ারম্যানের কাছে বারবার এ বিষয়ে আবেদন জানান, যেখানে শূন্য পদ নেই সেখানে স্থানান্তরের নির্দেশ কেন? তার আবেদনে সাড়া দেয়নি এসএসসি । নিরূপায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
বিচারপতি অমৃতা সিনার এজ্লাসে মামলার শুনানিতে পার্থসারথি দলুইয়ের পক্ষের আইনজীবী আশিষ কুমার চৌধুরী জানান, “একজন অসুস্থ ব্যক্তি এবং স্ত্রীও অসুস্থ। সে জন্য যদি কাছাকাছি স্কুলে আসতে চেয়ে আবেদন জানায় শিক্ষা দফতরে। রুল অনুযায়ী স্থানান্তর করতে বাধ্য তারা। কিন্তু এখানে কোন তথ্য যাচাই না করেই তাকে স্থানান্তরের অনুমোদন দেওয়া হল। অথচ সেই স্কুলে কোন শূন্য পদই নেই। খামখেয়ালি শিক্ষা দফতরের একজন কর্মচারীকে হেনস্থা করার অধিকার নেই। তাকে পুনরায় স্কুলে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হোক।”
বিচারপতি অমৃতা সিনহা এসএসসির এই ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, “তথ্য যাচাই না করেই বদলির নির্দেশ কেন? নতুন স্কুলে অতি সত্বর বদলির নির্দেশ জারি করা নির্দেশ দেন এসএসসিকে।”