এ কোন সকাল রাতের চেয়েও অন্ধকার। মঙ্গলবার গোটা কলকাতার যে ছবি তা দেখে এই কথাই মনে আসছে বারবার। রাস্তা তো বটেই, জলের তলায় প্রায় সমস্ত সরকারি হাসপাতাল।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বৃষ্টি হলেই কলকাতার সরকারি হাসপাতাল গুলিতে জল ঢুকে যায় বারবার কিন্তু সোমবারের রাতের মেঘ ভাঙা বৃষ্টি যেন সব হিসেব তছনছ করে দিয়েছে। শুধু যে হাসপাতালের বাইরে বা সামনের চত্বরে জল জমল তা তো নয়, জল ঢুকে গেল একাধিক ওয়ার্ডেও। ব্যাহত হচ্ছে রোগী পরিষেবা।

এসএসকেএম হাসপাতালে খুব একটা জল জমার সমস্যা হয় না, কিন্তু সোমবারের বৃষ্টির যা বেগ বা তীব্রতা ছিল তার কাছে হার মেনেছে সব কিছুই। এসএসকেএম হাসপাতালের গাইনোকলজি বিভাগ সহ বিভিন্ন বিভাগের ভিতর জল ঢুকে গিয়েছে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের একাংশে এখনও জল জমে রয়েছে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে জলে হাবুডুবু খাচ্ছে জরুরি বিভাগ। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ওয়ার্ডের ভিতরেও হাঁটুজল। রোগীদের বেডের পায়ার প্রায় পুরোটাই জলের তলায় ডুবে। জলে ভাসছে ডিজিটাল এক্স রে রুম। ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে এমআরআই রুমও জলের তলায় ডুবে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে কার্যত হাঁটুজল ঠেলে যাতায়াত করতে হচ্ছে সবাইকে।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবরেটরির সামনে মারাত্মক জল জমেছিল সকাল থেকেই, পাম্প চালিয়ে সেই জল বার করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে রুমে হাঁটুসমান জল। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় কোথাও হাঁটু সমান কোথাও কোমর সমান জল।

একই ছবি এনআরএসহাসপাতালেও। এই হাসপাতালে সাধারণ ওয়ার্ড এবং জরুরি বিভাগে জল নেই। তবে হাসপাতালের ভিতরের রাস্তায় জল জমে রয়েছে। এনআরএসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অনেক কর্মীই রাস্তায় আটকে পড়েছেন। তাই রাতের ডিউটিতে থাকা কর্মীদের আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এই আবহে মঙ্গলবার থেকেই স্কুলগুলিতে পুজোর ছুটি ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও জানান, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যদি ক্লাস করাতে হয়, তাহলে যেন অনলাইনে ক্লাস হয়। এমনিতে ২৬ তারিখ থেকে সব রাজ্য সরকারি অফিস কাছারিতে ছুটি পড়ে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষনা মত স্কুল শিক্ষা দফতর ইতিমধ্যেই যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করছে তাতে দেখা যাচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আগামী কাল ও পরশু অর্থাৎ ২৪ তারিখ এবং ২৫ তারিখ রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হলো। বিজ্ঞপ্তির কথা মাথায় রাখলে বলা যায় ২৬ সেপ্টেম্বরের বদলে রাজ্যের স্কুলগুলোতে ২৪ তারিখ থেকেই পুজোর ছুটি পড়ে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সিবিএসসি এবং আইসিএসসি বোর্ড কেও বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ করেছেন।