দীপাবলির আগে ফের হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে রাজ্য

বাজি জ্বালানো নিয়ে কী গাইডলাইন রয়েছে ? গ্রিন বাজি নিয়ে নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে কিনা? প্রশ্ন কলকাতা হাইকোর্টের।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সাংবাদিক:  আতস বাজি মামলায় হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে রাজ্য। সোমবার কালীপুজো। বিভিন্ন জায়গায়  মণ্ডপ ও প্রতিমাসজ্জার কাজ চলছে পুরোদমে। কুমোরটুলিতে মা কালীর মূর্তিতে শেষ তুলির টান দিচ্ছেন মূৎশিল্পীরা। সময়ের আগে মণ্ডপে পৌঁছে দিতে হবে প্রতিমা। সেইজন্য পুরোদমে চলছে প্রস্তুতি। এদিকে কালীপুজো মানেই দীপাবলি, আলোর উৎসব। প্রদীপ, মোমবাতির পাশাপাশি বিভিন্নরকম বাজির চাহিদাও থাকে তুঙ্গে। শুরু হয়ে গিয়েছে বাজি বাজার। বিক্রি হচ্ছে একাধিক বাজি। প্রত্যেকবছরই পরিবেশ দূষণ রোধ করতে বাজি পোড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। এবারও তার অন্যথা হয়নি।

একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছিল কলকাতা হাইকোর্টে। মামলাটি শোনেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্ত। দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন-

বাজি জ্বালানো নিয়ে কী গাইডলাইন রয়েছে ? কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? তা জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট।

রাজ্য সরকারকে আদালতের প্রশ্ন,  আপনারা রেজোলিউশন নিচ্ছেন আর আপনারাই প্রস্তুত নন? কালীপুজো আগামী সোমবার। শুধু কি কাগজ কলমে ?

উত্তরে রাজ্য সরকার জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর মুখ্যসচিব বৈঠক করেছিলেন গ্রিন বাজি নিয়ে। সেই নির্দেশিকা সব জেলার জেলাশাসক কে পাঠানো হয়েছে।

রাজ্যকে মাত্র ৩০ মিনিট সময় দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।

 রাজ্য সরকার জানায়, ট্রেনিদের নাম ফাইনালাইস করা হয়েছে। ফায়ার সেফটি ট্রেনিংয়ের জন্য ডাকা হবে।

সব শুনে বিচারপতি বলেন পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড কি বলছে ? রাজ্য নিষিদ্ধ বাজি ব্যান করার ক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ করেছে?

উত্তরে পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড জানায় আমাদের কাজ, দীপাবলির আগে বা পরে বাতাসের দূষণ মাত্রা খতিয়ে দেখা।

বিচারপতি প্রশ্ন করেন,  সেই কাজ কি হয়েছে? আপনারা কোনও টিম তৈরি করেছেন বাজি বাজারে পর্যবেক্ষণ করার জন্য? বাজির গুণমান পরীক্ষার জন্য কোনও পদক্ষেপ করেছেন?

পলিউশন বোর্ড জানায়, সেসব জেলাশাসকদের দায়িত্ব।

 বিচারপতি প্রশ্ন করেন,  আপনারা দায় না নিলে তাঁরা কী করবে?

সব শুনে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়,  বোর্ড সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি রাজ্য রিপোর্ট দেবে। নিয়ম কার্যকর করা হল কিনা, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করতে হবে আদালতে, কড়া নির্দেশ বিচারপতির।  ৩ সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি।