চোরবাগান সর্বজনীনের প্রথম সপ্তমীর রাতের পদপিষ্টের ঘটনা এখনও দগদগে স্মৃতি হয়ে রয়েছে। এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছর পুজোর ভিড় সামলাতে আগেভাগেই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিলেন তিনি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনা রুখতে আগাম প্রস্তুতির পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। ২০২৭ সালের দুর্গাপুজোর অনেক আগে থেকেই নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, উৎসবের আনন্দের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। মানুষের ভুলের কারণে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। দুর্ঘটনায় অসুস্থ ২৫ জনকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি। মৃত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনের পরিবারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই দেখা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাকি ছ’টি পরিবারের সঙ্গে ২৩ ও ২৪ তারিখে দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। প্রাণহানির ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব সেই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানোর অঙ্গীকারও করেন তিনি।
বুধবার রাতে শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজের মাঠে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলার পাশাপাশি শ্যামপুরের অতীতের অশান্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় যাঁরা মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন, আজ তাঁদেরই জেলে যেতে হচ্ছে। একইভাবে দুর্গাপ্রতিমা ভাঙার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।এদিনের অনুষ্ঠান থেকে শ্যামপুরের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নত করার লক্ষ্যে বর্তমানে ১৪ শয্যার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান। পাশাপাশি সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে পরিষেবা চালু করার আশ্বাস দেন তিনি।
শ্যামপুরের নদীবাঁধের ভাঙন রোধেও দ্রুত পদক্ষেপ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকা হওয়ায় নদীবাঁধের সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এলাকার কাঠের সেতুগুলিকে পাকা করার পরিকল্পনার কথাও জানান। বোয়ালিয়ায় একটি বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এছাড়াও শ্যামপুরে পর্যটন শিল্পের বিকাশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা গেলে এই এলাকায় পর্যটনের প্রসার ঘটানো সম্ভব বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।