উপকৃত হবেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও পরিবারগুলি।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ (ডিয়ারনেস রিলিফ বা ডিআর) এবং মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রদান শুরু করল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের বকেয়া অর্থ ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপকৃত হবেন।
গত ২৯ মে নবান্নের তরফে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বকেয়া ডিআর প্রদানের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী বা পেনশনভোগী প্রয়াত হয়ে থাকলে তাঁর প্রাপ্য বকেয়া অর্থ মনোনীত ব্যক্তি অথবা আইনগত উত্তরাধিকারীকে দেওয়া হবে।
সরকারি পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া অর্থ আটকে থাকায় বহু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মী বা পেনশনভোগীর মৃত্যু হয়েছে। ফলে তাঁদের প্রাপ্য অর্থ কার হাতে দেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। সেই সমস্যা দূর করতেই নতুন নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি সংশ্লিষ্ট কর্মীর মনোনীত ব্যক্তির নাম সরকারি নথিতে আগে থেকেই নথিভুক্ত থাকে, তবে তাঁকেই সরাসরি অর্থ প্রদান করা হবে। বর্তমান পারিবারিক পেনশনভোগী এবং মনোনীত ব্যক্তি যদি একই হন, সে ক্ষেত্রে অর্থ সরাসরি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। অন্যদিকে, মনোনয়নের কোনও তথ্য না থাকলে আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে। প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁদের হাতে বকেয়া অর্থ তুলে দেওয়া হবে।
শুধু ডিআর নয়, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ প্রদানের কাজও শুরু হয়েছে। অর্থ দফতর সূত্রে খবর, গত শুক্রবার থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বকেয়া ডিএ-র অর্থ সংশ্লিষ্টদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ-র টাকাই আপাতত মেটানো হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সংগঠনগুলি বকেয়া ডিএ ও ডিআর প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছিল। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সমস্ত বকেয়া মেটাতে কত সময় লাগবে এবং কতজন এই সুবিধার আওতায় আসবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তবু বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাঁদের পরিবারের কাছে এই উদ্যোগ স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রাপ্য অর্থ হাতে পাওয়ার আশা জোরালো হয়েছে তাঁদের মধ্যে।