হরমুজ প্রণালী আপাতত ‘সম্পূর্ণ খোলা’, দাবি ইরানের

যুদ্ধবিরতির মধ্যে সম্পূর্ণ খুলে গেল হরমুজ প্রণালী। তেলের দামে বড়সড় পতন।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিল তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা করেছেন, চলতি যুদ্ধবিরতির যে সময়টুকু বাকি আছে, সেই সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ খোলা’ থাকবে এবং সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি জানান, ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার নির্ধারিত সমন্বিত রুট মেনেই এই পথে চলাচল করা যাবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীর খোলার ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে গিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে এই ঘোষণার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে ভবিষ্যতে আর কখনও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। যদিও একই সঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।

এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট। সম্প্রতি ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই দেশের নেতৃত্বের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে। তেহরানের তরফেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, লেবানন-ইজরায়েল সংঘর্ষে বিরতি না এলে বৃহত্তর কোনও চুক্তি সম্ভব ছিল না।

ইউরোপীয় শক্তিগুলিও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হরমুজ প্রণালী খোলার ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও, তা স্থায়ী করার উপর জোর দিয়েছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ইতিমধ্যেই লন্ডনে সামরিক পরিকল্পনাকারীদের একটি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বহুজাতিক নিরাপত্তা মিশন গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

সব মিলিয়ে, আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির পারস্পরিক আস্থার উপরই নির্ভর করছে এই স্বস্তি কত দিন স্থায়ী হবে।