গ্যাস সঙ্কট মোকাবিলায় কড়া প্রশাসন

গ্যাস সঙ্কটে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের, অত্যাবশ্যক পণ্য আইনে নিয়ন্ত্রণ সরবরাহে

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রান্নার গ্যাসের বাড়তে থাকা সঙ্কট মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যক পণ্য আইনের জরুরি ধারা প্রয়োগ করে গ্যাস সরবরাহ ও বণ্টনে নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জারি হওয়া সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সীমার বেশি গ্যাস মজুত, বিক্রি বা ব্যবহার করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরবরাহকারীর লাইসেন্সও বাতিল করা হতে পারে।

সরকারি সূত্রের দাবি, আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় ভারতের বাজারেও চাপ পড়েছে। এর জেরে বিভিন্ন শহরে রান্নার গ্যাস সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর আকার নিয়েছে মুম্বইয়ে। সেখানে গ্যাসের অভাবে বহু হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রের অভিযোগ, সরবরাহে সমস্যা থাকলেও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে কিছু মানুষ। স্রেফ আতঙ্কের জেরে তারা গ্যাস মজুত করে রাখছে। অতিরিক্ত গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করে রেখে দেওয়ায় বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সরকার। সেই কারণেই অত্যাবশ্যক পণ্য আইনের ৩ ধারার অধীনে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই আইনের মাধ্যমে কেন্দ্র পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, বণ্টন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পায়। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উৎপাদন ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সমতাভিত্তিক বিপণন নিশ্চিত করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, জরুরি পরিষেবা ও অগ্রাধিকারভুক্ত খাতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। গত ছয় মাসের গড় ব্যবহার ধরে গ্যাস বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে বরাদ্দ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে সরকারের হাতে।

শহরাঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের অন্তত ৮০ শতাংশ সরবরাহ বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী সরকারি ও বেসরকারি সব সংস্থাকেই সর্বোচ্চ উৎপাদন বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।

সরকার আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত মাত্রার বেশি গ্যাস মজুত করা হলে কেবল সরবরাহকারীর লাইসেন্স বাতিলই নয়, আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। সর্বভারতীয় এই আইনের আওতায় রাজ্য সরকারগুলিকেও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

গ্যাস সঙ্কট মোকাবিলায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়িয়ে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাটাই এখন লক্ষ্য কেন্দ্রের।