একটা সাধারণ চায়ের আড্ডা। রাতের ব্যস্ততা তখনও পুরোপুরি কাটেনি। দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন কয়েকজন। আচমকাই সেই চায়ের আড্ডা পরিণত হল আতঙ্কের মুহূর্তে। চায়ের দোকানের সামনে পরপর গুলির শব্দ। মুহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায় এলাকায়। শনিবার রাতে হাওড়ার ডোমজুড়ের জাপানি গেট সংলগ্ন এলাকায় এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রকাশ্য এলাকায় চায়ের দোকানের সামনে আচমকা কেন গুলি চলল? কাকে লক্ষ্য করেই বা এই গুলি চালানো হয়েছিল?

রনজিৎ রায়,নিজস্ব সংবাদদাতা
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টা নাগাদ জাপানি গেটের কাছে একটি চায়ের দোকানে প্রতিদিনের মতোই বেশ কয়েকজন বসে চা খাচ্ছিলেন। জানা যাচ্ছে, সেই সময় দোকানে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন ছিলেন। সাধারণভাবেই চলছিল আড্ডা ও চা খাওয়ার পর্ব। রাতের ব্যস্ততার মধ্যেই হঠাৎ সেখানে এসে উপস্থিত হন স্থানীয়ভাবে বাপি বিরিয়ানি নামে পরিচিত এক ব্যক্তি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি কিছুক্ষণ দোকানে ছিলেন এবং চা খাওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ই ঘটে যায় ঘটনাটি।
অভিযোগ, দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই পকেট থেকে একটি রিভলবার বের করেন ওই ব্যক্তি। তারপর কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই গুলি চালানো হয়। আচমকা বিকট গুলির শব্দে কার্যত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। চায়ের দোকানে থাকা মানুষজনও প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। কেউ দোকান থেকে বেরিয়ে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ আশপাশে সরে যান। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যে জায়গায় স্বাভাবিক আড্ডা চলছিল, সেই জায়গাতেই তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। এই ঘটনায় স্বস্তির খবর একটাই এখনও পর্যন্ত কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। গুলি চললেও সৌভাগ্যবশত কোনও প্রাণহানি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি বলেই স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকাশ্য এলাকায়, তাও আবার মানুষের ভিড়ের মধ্যে এমনভাবে গুলি চলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের একটাই প্রশ্ন এভাবে জনবহুল এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কীভাবে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল?
ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডোমজুড় থানার পুলিশ। পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি, ঠিক কী ঘটেছিল এবং কী কারণে এই গুলি চালানো হল, তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উঠে আসছে, সেই বাপি বিরিয়ানির সন্ধানেও তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই গুলিকাণ্ডের নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেন ওই ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালালেন, কাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল, নাকি কাউকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা। এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছে পুলিশ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই স্থানীয়দের একাংশের দাবি ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় বা এই গুলিকাণ্ডের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের যে দাবি, সেটিকে ঘিরেও তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হল, কেন একটি সাধারণ চায়ের দোকান আচমকাই গুলির ঘটনায় আতঙ্কের কেন্দ্রে পরিণত হল। রাতের ব্যস্ত সময়ে যেখানে মানুষ চা খেতে বসেছিলেন সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালানোর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশের তদন্তে এখন মূলত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে,কী কারণে গুলি চালানো হল? গুলি চালানোর সময় ওই ব্যক্তির সঙ্গে আর কেউ ছিলেন কি না? কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা, পুরনো বিবাদ বা অন্য কোনও কারণ এর পিছনে রয়েছে কি না? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, গুলি চালানোর সময় ঠিক কাকে নিশানা করা হয়েছিল?এই মুহূর্তে গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তির সন্ধান করছে। তাঁর সন্ধান পাওয়া গেলে জিজ্ঞাসাবাদের পরই হয়তো পরিষ্কার হবে, ঠিক কী কারণে চায়ের দোকানের সামনে এমন ঘটনা ঘটল।