আচমকাই অসুস্থ মহিলা বিএলও! রাজনৈতিক তরজা শুরু!

কাজ করার সময় আচমকাই অসুস্থ মহিলা বিএলও। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে হাজির হয়ে কেঁদে ভাসালেন বিএলও। 

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা : কাজ করার সময় আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়লেন মহিলা বিএলও। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এনুমারেশান ফর্ম সংগ্রহের সময় আচমকাই বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। তড়িঘড়ি ওই বিএলওকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে হাজির নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই কেঁদে ভাসালেন তিনি। এই ঘটনায় শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধীর রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের যাবতীয় দায় বিজেপির উপরে চাপিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। পাল্টা এই ঘটনার দায় তৃণমূলের বলে দাবি করেছে বিজেপি। বিজেপির দাবি তৃণমূলের চাপ ও হুমকির মুখে পড়েই বিএলওরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের ব্লকের নারায়নপুর ২২৪ নম্বর বুথের ঘটনা। বাঁকুড়ার পাত্রসায়র ব্লকের ২২৪ নম্বর বুথের নারায়ণপুর গ্রামে বিএলও হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন আইসিডিএস সুপারভাইজার সবিতা সর্দার। ওই বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ১০৯৮ জন।  কর্মসূত্রে নারায়নপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন ওই বিএলও। বাড়িতে রয়েছে তাঁর শিশু সন্তান। এলাকার মানুষকে সেভাবে তিনি চেনেন না। তাছাড়া পারিবারিক সমস্যাও রয়েছে। এই কারণে এসআইআরের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে দরবারও করেছিলেন প্রশাসনিক বিভিন্ন দফতরে। এমনকি দিদিকে বলো ফোন নম্বরেও অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু কোনওকিছুতেই লাভ হয়নি। অচেনা এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসআইআর-এর প্রাথমিক কাজ হিসাবে এনুমারেশান ফর্ম বিতরণের কাজ শেষ করেছেন। এখন বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফর্ম সংগ্রহের পাশাপাশি চলছিল রাত জেগে সেই ফর্মের তথ্য নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে আপলোডের কাজ। ওই বিএলও-র দাবি অতিরিক্ত এই কাজের চাপে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফর্ম সংগ্রহের সময় আচমকাই তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি।

অসুস্থ অবস্থায় দ্রুত তিনি কাজ ছেড়ে পাত্রসায়র ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হাজির হন। সেখানে কাজের চাপে দিশেহারা সবিতা সর্দার ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেন। কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি কী করে কাজ সম্পূর্ণ করবেন, তা নিয়ে রীতিমত দুশ্চিন্তা ধরা পড়ে তাঁর গলায়।

এদিকে বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর জানাজানি হতেই হাসপাতালে তাঁকে দেখতে হাজির হন তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত। তিনি এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় চাপিয়েছেন বিজেপির ঘাড়ে। তাঁর দাবি নির্বাচন কমিশন বিজেপির কমিশনে পরিণত হয়েছে। বিজেপির নির্দেশেই ২ বছরের কাজ এক মাসে করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। অতিরিক্ত সেই কাজের চাপেই এভাবে বিএলওরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই ঘটনায় পাল্টা তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে বিজেপির দাবি,  এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরুর থেকেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে সর্বত্র বিএলওদের চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আর তাতেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বিএলওরা। এক্ষেত্রেও হয়তো তেমনটাই হয়েছে।