প্রশাসনের ভূমিকা আদালতের বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পরই এলাকায় প্রবেশ করলেন আরাবুল ইসলাম।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভাঙড় বরাবরই উত্তপ্ত। সম্প্রতি আরাবুল ইসলামের ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির অফিস ‘দখল’ করার ঘটনাটি সেই উত্তাপকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পুরো বিষয়টি বেশ নাটকীয় এবং বিতর্কিত।
আরাবুল ইসলাম একসময় ভাঙড়ের বেতাজ বাদশা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হন। তবে পরবর্তীতে একটি খুনের মামলায় তিনি জেলবন্দি হন এবং দল (তৃণমূল) তাকে সাসপেন্ড করে।
নির্বাসিত জীবন ও দলবদল: আইনি জটিলতায় এবং আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ সময় তিনি ভাঙড়ে প্রবেশ করতে পারেননি। এই সুযোগে পঞ্চায়েত সমিতিতে তার বিরোধী গোষ্ঠী বা দল ক্ষমতা দখল করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে আইএসএফ (ISF) শিবিরে যোগ দেন এবং প্রার্থী হন। তবে নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
অফিস ‘পুনরুদ্ধার’: বুধবার সকালে হঠাৎ করেই আরাবুল ইসলাম অনুগামীদের নিয়ে ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে হাজির হন। দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে তিনি সোজাসুজি নিজের পুরনো দফতরে গিয়ে বসেন। তার দাবি, তিনি আইনত নির্বাচিত সভাপতি, তাই তার চেয়ারে বসা কোনো অন্যায় নয়।
আইনি অবস্থান যদিও তিনি সাসপেন্ড হয়েছিলেন, তবে প্রযুক্তিগতভাবে তিনি এখনো পদত্যাগ করেননি বা তাকে পদ থেকে সরানো হয়নি—এই যুক্তিকেই তিনি হাতিয়ার করেছেন।
রাজনৈতিক সংঘাত তৃণমূলের একাংশ এবং বর্তমান স্থানীয় নেতৃত্বের কাছে এই ঘটনাটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর ফলে ভাঙড়ে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা আদালতের বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর তার এলাকায় প্রবেশ আইনি হলেও, পঞ্চায়েত সমিতির অফিস দখল করা নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে সবার নজর রয়েছে।
আরাবুল ইসলামের এই পদক্ষেপ আসলে ২০২৬ পরবর্তী সময়ে ভাঙড়ে নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য ফিরে পাওয়ার একটি চেষ্টা। পরাজয়ের পর দমে না গিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিতে চাইছেন যে, ভাঙড়ের রাশ এখনও তাঁর হাতেই রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে।