বিজেপি করার ‘অপরাধে’ আক্রান্ত সুজিত সর্দারকে ফের প্রাণনাশের হুমকি, বারুইপুরে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, তবে কি বদলায়নি তৃণমূল স্তরের বাস্তবের ছবিটা? অন্তত এমনটাই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে সুজিত সর্দারের ঘটনা। ২০২২ সালে বিজেপি করার ‘অপরাধে’ বারুইপুরে দুষ্কৃতীদের হাতে নৃশংসভাবে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলেও, আজও তিনি সুবিচার পাননি। উল্টে পুরোনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ফের তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। সুবিচারের আশায় তাই ফের প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন এই আতঙ্কিত ব্যক্তি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন সুজিত সর্দার। সেই সময় আচমকাই তৃণমূল আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী তাঁর ওপর চড়াও হয়। তাঁকে বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় কোপানো হয় বলে অভিযোগ।
সেই দিনের হামলায় সুজিত সর্দারের মাথায় ৭০টিরও বেশি সেলাই পড়েছিল। চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সে যাত্রায় কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
সুস্থ হয়ে তিনি আইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, তিনি বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণে এবং আক্রমণকারীরা তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থাকায়, পুলিশ প্রশাসন কোনও কড়া পদক্ষেপ নেয়নি। অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে এবং বাংলায় এখন বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুজিত সর্দারের আশা ছিল, নিজের দলের সরকার ক্ষমতায় এলে অন্তত পুরোনো সেই ভয়াবহ হামলার সুবিচার পাবেন তিনি। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অভিযোগ, সেই পুরোনো দুষ্কৃতীরা আজও বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এলাকায়। শুধু তাই নয়, ২০২২ সালের সেই পুরোনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তারা সুজিত সর্দারকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
“রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর, বিশেষ করে যে দলের কর্মী হিসেবে তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন সেই দলই ক্ষমতায় আসার পরও, পুরোনো অপরাধীরা এত সাহস পাচ্ছে কীভাবে? প্রশাসনের নজরদারি তবে কোথায়?”উঠছে প্রশ্ন!
অব্যাহত এই হুমকির জেরে সুজিত সর্দার ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাজ্যে নিজেদের সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন দুষ্কৃতীরা এতটা বেপরোয়া, তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না তিনি।
অবিলম্বে নিজেদের নিরাপত্তা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে কাতর আবেদন জানিয়েছেন সুজিত। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকার ও প্রশাসন এই ঘটনায় কতটা দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে সুজিত সর্দারকে তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুবিচার পাইয়ে দিতে পারে।