Supreme court on SIR: লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি তালিকা প্রকাশ করতে হবে বলে কড়া নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ পুরোদমে চলছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নামে ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে আপত্তি জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন, দোলা সেন। সোমবার সেই মামলা শোনে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি সূ্র্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ। শুরুতে আইনজীবী কপিল সিব্বাল বলেন, “শুধুমাত্র বয়সের ফারাক নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকায় তথ্যগত গড়মিল বলে চালানো হচ্ছে। নাম উচ্চারণে ফারাকের কারণেও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের মধ্যে বয়সে ১৫ বছর ফারাক থাকলেও, শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে। যে দেশে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যায়নি, সেই দেশে এই ফারাক কি খুব অসঙ্গত ? ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাম নিয়ে লজক্যাল ডিস্ক্রিপ্যান্সি আছে বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।”
শুনানি শেষে SIR নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগকেই মান্যতা দিলে সুপ্রিমকোর্ট। লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি তালিকা প্রকাশ করতে হবে বলে কড়া নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ,
১. গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ্যে ওই তালিকা টাঙিয়ে দিতে হবে।
২. প্রতিটি ব্লক অফিসে আলাদা কাউন্টার বা অফিস খুলতে হবে, যেখানে মানুষ নথি জমা দিতে পারবেন এবং আপত্তিও জানাতে পারবেন।
৩. রাজ্য সরকারকে পর্যাপ্ত কর্মী দিতে হবে। এই কর্মীরা পঞ্চায়েত ভবন ও ব্লক অফিসে বসে ভোটারদের কথা শুনবেন।
৪. প্রতিটি জেলার জেলাশাসককে এই নির্দেশ কঠোরভাবে মানতে হবে।
৫. এই পুরো প্রক্রিয়ার সময় রাজ্যকে যথাযথ পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৬. স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নথি গ্রহণ ও শুনানি করলে অবশ্যই রসিদ এবং সিদ্ধান্তের কারণ লিখিতভাবে জানাবেন।
৭. আগামী ৬ সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি।

সুপ্রিমকোর্টের রায় নিয়ে বারাসতের সভা থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এরা মানুষকে ভাতে মেরে বসে থাকেনি, মৌলিক অধিকার ভোটাধিকারও কেড়ে নিতে চেয়েছে, তাদের দুগালে কষিয়ে থাপ্পর মেরেছে সুপ্রিমকোর্ট। আজকে কোর্টে হারালাম, পরে ভোটেও হারাবো, তৈরি থাকো।”

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “সুপ্রিমকোর্ট এসআইআর পদ্ধতি নিয়ে যা নির্দেশনামা দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ভোটারদের অধিকার রক্ষায় যে দাবিগুলি করছিল, সেটাই মান্যতা পাচ্ছে।”
এই নিয়ে কুণাল ঘোষের কটাক্ষ, “কমিশনের গালে গালে, দিল সুপ্রিমকোর্ট তালে তালে।”