“বিলে সই করার জন্য রাজ্যপালকে টাইমলাইন নয়” 

“প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই তিনটি বিকল্পের মধ্যে ১টি বেছে নিতে হবে। “

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : প্রেসিডেন্সিয়াল রেফারেন্স মামলার রায় দিতে গিয়ে বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিমকোর্ট। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, কোনও রাজ্যপালের বিল আটকে রাখার অধিকার নেই। প্রধান বিচারপতি বিআর গভাই নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, রাজ্যপালের কাছে তিনটি সাংবিধানিক বিকল্প রয়েছে। তা হল-

১. বিলটিতে সই করতে পারেন।

২. না হয় ওই বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে

৩. সম্মতি না দিয়ে বিলটি ফেরত পাঠাতে পারেন।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি এএস চন্দরকর। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই তিনটি বিকল্পের মধ্যে ১টি বেছে নিতে হবে। তবে রাজ্যপাল কতদিনের মধ্যে বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার জন্য আদালত কখনই সময় বেঁধে দিতে পারে না। এটি আদালতের বিবেচনার বিষয় নয়।

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি কীভাবে কাজ করছেন, তা আদালতের বিচারের বিষয় নয়। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে জমা করা বিল নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না করা হয় এবং অনির্দিষ্টকাল ওই বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দেরি করা হয়। জমা থাকা বিল নিয়ে কেনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না, তার ব্যাখ্যা না দেওয়া হলে, একটি সীমিত নির্দেশ দিতে পারে আদালত। যাতে রাজ্যপাল নিজের দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি বিআই গভাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের কাজের উপর বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ করা যায় না। তবে দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেলে সাংবিধানিক আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৩ উদ্ধৃত করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কোনও বিল নিয়ে প্রশ্ন দেখা গেলে রাষ্ট্রপতিকে প্রতি বার শীর্ষ আদালতের মতামত চাইতেই হবে— এমন বাধ্যবাধকতা নেই। অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুসারে সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের ক্ষমতা পূরণ করতে পারে না।  বিল আইনে পরিণত না হলেও, রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

গত ১২ এপ্রিল তামিলনাড়ু সরকারের দায়ের করা একটি মামলার রায়দান করতে গিয়ে বিলে সই করার ক্ষেত্রে রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতিকে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশে আপত্তি জানান উপরাষ্ট্রপতি-সহ অনেকেই। রাষ্ট্রপতিকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের আছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করে। এই নিয়ে শীর্ষ আদালতের পরামর্শ চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার সুপ্রিম কোর্টকে  জানায়, তারা রাজ্যপালকে বিল সইয়ের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পক্ষে নয়। তারপরই বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল শীর্ষ আদালত।