শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, “ভোটের আগে ক্লাবগুলিকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।”

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : মথুরাপুরে বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার এর উদ্যোগে রায়দিঘি বিধানসভার ৫১টি ক্লাবকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং ফুটবল প্রদান করা হয়। সাংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে ভোটের প্রাক্কালে এতগুলি ক্লাবকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
সোমবার মথুরাপুরে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প’ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “এই অর্থ কোন সংস্থা দিয়েছে? সেই সংস্থার রেজিস্ট্রেশন নম্বর কী? টাকার উৎস কোথায়? শুভেন্দুর দাবি, আগামী তিন দিনের মধ্যে সাংসদ যদি অনুদানের উৎস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করেন, তাহলে তিনি বিষয়টি নিয়ে ইনকাম ট্যাক্স দফতরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, “ভোটের আগে ক্লাবগুলিকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।” তাঁর কথায়, “জনগণের টাকায় বা অজ্ঞাত উৎসের অর্থে ভোটের আগে এই ধরনের অনুদান দেওয়া হলে তার স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, যদি সব কিছু নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে, তাহলে তথ্য প্রকাশ করতে আপত্তি থাকার কথা নয়।
এদিনের সভা থেকে শাসকদলের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় দুর্নীতির ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করে তিনি রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। পাশাপাশি এসআইআর সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে মথুরাপুরে অনুদান বিতরণকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর নতুন মাত্রা পেল। সাংসদের তরফে এই অভিযোগের কী জবাব আসে এবং বিষয়টি আদৌ ইনকাম ট্যাক্স পর্যন্ত গড়ায় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।সংকল্প পত্র প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা চরম আকার নিয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে এবং এর পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আইন নিজের পথে চলবে এবং দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
এদিন প্রয়াত নেতা মুকুল রায় -এর মৃত্যুদিনে তাঁকে স্মরণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “দুঃসময়ে বিজেপি মুকুল রায়কে দেখেছে, কিন্তু তৃণমূল তাঁকে লেখেনি।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, রাজনৈতিক লড়াইয়ের কঠিন সময়ে মুকুল রায় দলের পাশে ছিলেন এবং তাঁর সংগঠন গড়ে তোলার ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।
পাশাপাশি তিনি ইডি ও সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটের আগে তদন্তকারী সংস্থাগুলি সক্রিয় হওয়া নিয়ে শাসকদলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। “দুর্নীতি হলে তদন্ত হবেই,”—এই বার্তাই দেন তিনি।
সংকল্প পত্রে উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সভা শেষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী আসন্ন নির্বাচনের জন্য সংগঠন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে ২০২৬-কে সামনে রেখে মথুরাপুরে বিজেপির রাজনৈতিক প্রস্তুতির বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠল এই কর্মসূচির মাধ্যমে।