নন্দীগ্রামবাসীকে প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস শুভেন্দুর

বিপুল ভোটে জয়ের পর নন্দীগ্রামে যেতেই শুভেন্দুকে ঘিরে ধরলেন সমর্থকেরা। উঠল ‘আপনাকেই মুখ্যমন্ত্রী চাই’ স্লোগানও।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোটের ময়দানে জোড়া সাফল্যের পর এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখে শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও ১০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। কিন্তু নিয়ম বলছে, দু’টি আসনের মধ্যে একটি ছাড়তে হবে তাঁকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—কোন আসনটি রাখবেন শুভেন্দু অধিকারী?

বুধবার নন্দীগ্রামে বিজেপি কার্যালয়ে পৌঁছতেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ভেসে যান তিনি। সেই আবহেই শুভেন্দু স্পষ্ট করে দেন, সিদ্ধান্ত তাঁর একার নয়। তাঁর কথায়, “সব সিদ্ধান্ত তো আমি নিতে পারি না। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যা ঠিক করবে, সেটাই হবে। আমি আমার মতামত জানাব, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ওঁরাই।” একইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, “আমি ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাপরায়ণ। তাই দলের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে মেনে চলব।”

রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিয়ে ভবানীপুর রাখতেই পারেন তিনি। কারণ, কলকাতার এই কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে কোন আসন ছাড়বেন, সেই জল্পনার মধ্যেই নন্দীগ্রামের মানুষের উদ্দেশে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “হলদিয়া আর নন্দীগ্রামকে যুক্ত করব। গোকুলনগরে এমন হাসপাতাল তৈরি হবে, যাতে আর কাউকে রেফার করতে না হয়। আগামী ছ’মাসের মধ্যে জল সংযোগও পৌঁছে দেওয়া হবে।”

শুধু উন্নয়ন নয়, আবেগের সুরও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। ৭ জানুয়ারি, ১৪ মার্চ কিংবা ১০ নভেম্বর—নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত দিনগুলির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এই দিনগুলো তিনি ভুলবেন না। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবেও নিয়মিত উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন। তাঁর কথায়, “দোলপূর্ণিমা, রথযাত্রা, দুর্গাপুজো, কালীপুজো—সব উৎসবেই আমাকে পাবেন।”

এ দিন সভাস্থলেই ‘আপনাকেই মুখ্যমন্ত্রী চাই’ স্লোগানও শোনা যায় সমর্থকদের মুখে। যদিও সে বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, শুভেন্দু স্পষ্ট করেন তাঁর লক্ষ্য উন্নয়ন ও সংগঠনকে শক্তিশালী করা।

২০১৬, ২০২১-এর পর ২০২৬—পরপর তিনবার নন্দীগ্রাম থেকে জয়ের পর তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের ঋণ আমি শোধ করবই।” একইসঙ্গে কর্মীদের হিংসা থেকে বিরত থাকার বার্তা দিয়ে জানান, “আইনের পথেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না।”

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের এই পর্বে শুভেন্দু অধিকারীর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, কোন আসন তিনি রাখেন, কোনটা ছেড়ে দেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।