কৃষ্ণনগরে পরিবর্তন সংকল্প সভা থেকে শাসকদলকে কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা: “ রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে এবং বর্তমান সরকার তা সামাল দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ”। মঙ্গলবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণের ধুবুলিয়ায় বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায থেকে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সভায় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী সহ জেলা ও রাজ্য স্তরের বিজেপি নেতৃত্বরা।
শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে শুভেন্দুর দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়েছে। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় সাম্প্রতিক ঘটনাকেও উল্লেখ করেন বিরোধী দলনেতা। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুর্শিদাবাদের হিন্দু সম্প্রদায়কে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সবাইকে সংগঠিত হতে হবে।“
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমার আবেদনের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ৫ কোম্পানি প্যারা মিলিটারি ফোর্স মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ভারত সরকার মনে করলে এই দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এনআইএ করতে পারে। মুর্শিদাবাদে যে লাগাতার জামাতিদের আন্দোলনের নামে হিন্দুদের উপর অত্যাচার হয়েছে, হাইকোর্ট তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিয়েছে। ২০২৪-এর শেষের দিকে ধুলিয়ান ও সামসেরগঞ্জে যে নারকীয় ঘটনা ঘটেছিল, ৪৭ সালের পর আমরা আরেকবার হিন্দু পলায়ন দেখেছিলাম। মাত্র ২০ শতাংশ হিন্দু থাকে সেখানে। তারপরও এর মধ্যে থেকেও দুজনকে তরোয়াল দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। আমি আদালতে গিয়ে ১৭ কোম্পানি প্যারা মিলিটারির ব্যবস্থা করেছিলাম। এরপর সেখানে হিন্দুরা বেঁচে রয়েছেন।“
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র কটাক্ষ, “এই মহিলার নেতৃত্বে রাজ্যে যে সরকার চলছে, তাতে গোটা প্রশাসন, পুলিশকে জামাতিকরণ করে দেওয়া হয়েছে।“
সবশেষে সভায় রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থন চেয়ে প্রচার করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।