বিহারের বাঘিনীকে বক্সায় ছাড়লেন শুভেন্দু!

অপেক্ষার অবসান। উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ফেরানো হল বাঘ। শুক্রবার তিন বছরের বাঘিনী T138-কে বক্সা টাইগার রিজ়ার্ভের কোর এলাকায় ছাড়া হল। বাল্মিকী টাইগার রিজ়ার্ভ থেকে আনা ওই বাঘিনীকে যৌথ ভাবে জঙ্গলে ছাড়লেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। এর সঙ্গেই রাজ্যে প্রথম বাঘ পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচির সূচনা হল।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

জাতীয় বন্যপ্রাণ সপ্তাহের সূচনার দিনেই এই পদক্ষেপকে বক্সার সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে। ভূপেন্দ্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ল্যান্ডস্কেপ সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণ রক্ষার উদ্যোগ থেকেই এই প্রকল্পের অনুপ্রেরণা। বাঘিনীকে বক্সায় আনার জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সহযোগিতার জন্যও ধন্যবাদ জানান তিনি।

বক্সায় বাঘ ফেরানোর চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সাল থেকেই এই নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল। কেন বক্সা থেকে বাঘের স্থায়ী বসতি হারিয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ, প্রকৃতিবিদ এবং বিজ্ঞানীদের নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। গত আট বছরে বাঘের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দাবি, বর্তমানে বক্সায় বাঘের খাদ্যভাণ্ডার যথেষ্ট শক্তিশালী।

শুধু তাই নয়, বাঘের বিচরণক্ষেত্র সুরক্ষিত করতে স্বেচ্ছায় দু’টি গ্রামও অন্যত্র সরানো হয়েছে। গত আট বছরে প্রায় ৮০০টি চিতল হরিণ বক্সায় ছাড়া হয়েছে। প্রায় ৩৮০ হেক্টর তৃণভূমি পুনরুদ্ধার বা নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণে বক্সায় শিকারের প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রবণতাও ধরা পড়েছে।

১৯৮৩ সালে টাইগার রিজ়ার্ভের মর্যাদা পাওয়া বক্সা এক সময়ে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বাঘের বিচরণক্ষেত্র ছিল। কিন্তু বনভূমির অবক্ষয়, জমির ব্যবহার বদল এবং খাদ্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেখানে স্থায়ী বাঘের সংখ্যা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল।

এ বার সেই পরিস্থিতি বদলের লক্ষ্যেই T138-এর হাত ধরে শুরু হল নতুন অধ্যায়। বক্সার জঙ্গলে বাঘের স্থায়ী বসতি ফিরিয়ে আনাই এখন বন দফতরের পরবর্তী বড় পরীক্ষা।