নন্দীগ্রামে মুসলিম পাড়ায় শুভেন্দুর ‘নো এন্ট্রি’!

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫% – ৩৪%।

আব়প্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নন্দীগ্রাম। রাজ্য রাজনীতির অন্যতম ব্যাটেল গ্রাউন্ড। যে ভূমি ব্যবহার করে একসময় মসনদে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার সেই ভূমেই হারের ধাক্কাও সামলাতে হয়েছে তাঁকে। এই নন্দীগ্রামে বড় ফ্যাক্টর শুভেন্দু অধিকারী। একসময়ের তৃণমূলের সেনাপতি এখন বিজেপির ছাতার তলায। জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে হিন্দুত্বের ধ্বজা কাঁধে চষে বেড়াচ্ছেন বাংলা। হিন্দুদের রক্ষা করার কথা বলে তৈরি করছেন ধর্মীয় মেরুকরণ। এই সেদিন সোনাচূড়ায় মুসলিম ভোট নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মুসলমান পাড়ায় বিজেপির পতাকা দেখতে পাচ্ছেন, হিন্দু পাড়ায় ওদের পতাকা দেখতে পাচ্ছেন না। ওদের পাড়ায় আমাদের প্রচারের সুযোগ আছে। আমাদের পাড়ায় ওদের সুযোগ আছে। বিজেপি জয় শ্রীরাম বলে, তিলক লাগায়। তাই বিজেপিকে ভোট দেওয়া যাবে না। আর আপনার পাড়ায় আমি ৭০০ ভোটের মধ্যে আমি ৪০০, তৃণমূল ২৫০, অস্তিত্বহীন সিপিএম ৫০। কেন হবে, আপনি কেন ৭০০-তে ৭০০ পাবেন না? আমরা হিন্দু মুসলমান করি না ওরা করে। ”


শুভেন্দু অধিকারী বলছেন নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু পাড়ায় তিনি পৌঁছাতে পারছেন না। তাহলে সমীকরণ কী বলছে? নন্দীগ্রামের মুসলিম ভোট কি একটিও বিজেপির বাক্সে যাচ্ছে না? মুসলিম ভোট বাদ দিলে কত ভোট পেতে পারেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী? এবারও নন্দীগ্রামে লড়াই বেশ জোরদার। গুরু-শিষ্যের লড়াই দেখবে বাংলা। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু বনাম তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের লড়াই বেশ জমে উঠেছে। পিছিয়ে নেই আইএসএফও। তারাও প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের দলও লড়াইয়ে রয়েছে। তবে কী নন্দীগ্রামের মুসলিম ভোট এবার ভাগাভাগি হয়ে যাবে। পরিসংখ্যান বলছে,২০১১ সালের আদমশুমারি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ থেকে ৩৪ শতাংশের মধ্যে। অর্থাৎ নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩৪% । তবে এসআইআরের কোপ পড়েছে নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে।

নন্দীগ্রামে বাদের খাতা

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত তালিকায়
মোট ১০,৬০৪ জনের নাম বাদ পড়েছিল
যার মধ্যে ৬৬.৭ শতাংশ ছিলেন অ-মুসলিম
৩৩.৩ শতাংশ মুসলিম
সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় মোট ২,৮২৬ জন ভোটারের নাম বাদ
যার মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা ২,৭০০
শতাংশের হিসাবে তা প্রায় ৯৫.৫ শতাংশ

এই তালিকায় অ-মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়ার সংখ্যা মাত্র ১২৬ জন বা প্রায় ৪.৫ শতাংশ। নাম বাদ পড়ার তালিকায় ৫১.১ শতাংশ পুরুষ ও ৪৮.৯ শতাংশ মহিলা রয়েছেন বলে খবর। কেন মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে নাম বাদ পড়ার এই তালিকায় এত বড় পরিবর্তন হল, কেন নির্দিষ্টভাবে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কেই এই প্রক্রিয়ার কবলে পড়তে হয়েছে, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি তথা নন্দীগ্রামের অন্যতম তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান বলেন, “বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ ওঁরা বিজেপির ভোটার নন। এই কারণেই কী শুভেন্দু অধিকারী হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখতে এই ধরনের বিভাজন মূলক প্রচার চালাচ্ছেন। নন্দীগ্রামের ভোট যুদ্ধ এবারেও কিন্তু প্রেস্টিজ ফাইট শাসক দলের কাছে। তাই তো শুভেন্দুকে ধাক্কা দিতে তাঁর ডানহাত বলে পরিচিত পবিত্র করকে ময়দানে নামিয়েছে তৃণমূল। পবিত্র সরকারকে কি পাড়বে বিজেপির বাড়া ভাতে তথা শুভেন্দু অধিকারীর নাক কাটতে। অন্যদিকে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এর প্রার্থী হলেন মৌলানা মহম্মদ সবেমিরাজ খান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তিনি কিছুটা হলেও মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কে ভাগ বসাবেন। মুসলিম ভোটে দাঁত ফোটাতে পারবেন না বলে আভাস পেয়েই কি শুভেন্দু অধিকারী এই ধরণের মন্তব্য করছেন। উঠেছে প্রশ্ন।