স্বামীজির জন্মবার্ষিকীতে শাসক-বিরোধীর তরজা তুঙ্গে

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীতে যুবরাজ-কে স্বাগত জানিয়ে এ কেমন পোস্টার?  প্রশ্ন তুলে তৃণমূলকে নিশানা বিজেপি নেতৃত্বের। এটা অনুগামীদের ভালোবাসা পাল্টা মন্ত্রী শশী পাঁজার।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক :  স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীতেও রাজনীতিতে একে অপরকে একফোঁটা জমি ছাড়ল না তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি। স্বামীজির সিমলা স্ট্রিটের বাড়ির বাইরে তৃণমূলের পোস্টারে ছবি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিবেকানন্দের উদ্দেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে সেখানে যাওয়ার কথা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। তাঁকে স্বাগত জানাতে পোস্টারও পড়ে। তাতে লেখা, ‘স্বাগতম যুবরাজ’। তা নিয়েই তরজা শুরু হয় শাসক-বিরোধীর।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্বামীজির উক্তিগুলোই এখানে চর্চিত হওয়া উচিৎ। আজ অন্য কেউ অপ্রাসঙ্গিক। আমাদের হোর্ডিংয়ে আমরা নিজেদের নামও লিখতে দিইনা। কারণ স্বামীজিই একমাত্র যুবরাজ। আমি ৩৩ বছর ধরে এখানে আসি। আমার বয়স ৫৫। ওদের নাম মুখেও আনতে চাই না। এরা হিজাব বোরখার লোক। এরা আরবের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়। এদের কথা এখানে বলে আমি অপবিত্র করবো না।“

পাল্টা মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “জনপ্রিয় নেতানেত্রীদের ভালোবাসার চোখে দেখে মানুষ। তাদের ভালোবেসে মানুষ কীভাবে ডাকবে তাদের ব্যাপার। এই নিয়ে এত চর্চার কী আছে? স্বামীজির জন্মবার্ষিকীতে তাঁর বক্তব্য তাঁর কথা নিয়ে আলোচনা হোক। “

সিমলা স্ট্রিটে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিঁধেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারও। তিনি বলেন, “যুব সমাজের হাতে কাজ, শিল্পায়ন চাইলে স্বামীজির নীতির উপর আধারিত সরকার যেমনটা কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনই রাজ্যেও দরকার।“   

বীর সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম দিবস ও জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষ্যে বেহালা ১৪নং বাস স্ট্যান্ডে বিবেক যাত্রায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী যখন নথি লোপাট করছেন, সেরাজ্যে আইনশৃঙ্খলা, সরকার বলে কিছু নেই সেটাই স্বাভাবিক। এবার কে কার বিরুদ্ধে মামলা করবে? ইডি কাকে জেরা করবে, তা নিয়ে আমাদের উৎসাহ নেই। কারণ ইডির তদন্তের দীর্ঘসূত্রতায় আমরাও বিরক্ত। আমরা প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত। কিছু করারও নেই। এটা তো তৃণমূলের পুলিশ বা সিআইডি নয়। বা এটা কেজড প্যারট সিবিআইও নয়। মানুষ দেখেছে পশ্চিমবঙ্গে কীভাবে একটা হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই গুন্ডামির, ভ্রষ্টাচার, সীমাহীন বিরুদ্ধে মানুষ সংগঠিত হবে, সেই মানুষই একদিন এদেরকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। কোনও আদালতের প্রয়োজন নেই।“