পুলিশের জালে স্বরূপ বিশ্বাস

স্বরূপ গ্রেফতারিতে মুখ খুললেন দিলীপ, বললেন— ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে বহু মানুষের উপর অত্যাচার।’

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ার অন্দরে ক্ষোভ জমলেও প্রকাশ্যে খুব কম মানুষই মুখ খুলতেন। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সাংগঠনিক ক্ষমতার জোরে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন প্রযোজক ও সংগঠক স্বরূপ বিশ্বাস। অবশেষে শ্লীলতাহানি এবং অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার রাতেই স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর সেই গ্রেফতারির পরেই টলিউডে নানা প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে শুরু করেছে।

শুক্রবার সকালে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি বলেন, ‘‘লোকে এবার জানুক কত অত্যাচারী ছিল। এরা দিনের পর দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। বছরের পর বছর মানুষ মুখ খোলার সাহস পাননি। এখন অভিযোগ করছে। দেশে আইন আছে। অন্যায় করলে কেউ ছাড় পাবে না।’’

পুলিশ সূত্রে খবর, এক মহিলা মেকআপ আর্টিস্টের অভিযোগের ভিত্তিতেই স্বরূপ বিশ্বাসে বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগকারিণীর দাবি, তিনি দীর্ঘ দু’বছর কোনও কাজ পাননি। কাজের জন্য যোগাযোগ করলে তাঁর কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, টাকা না দিলে ভবিষ্যতে কাজ দেওয়া হবে না বলেও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি ওই মহিলার।

অভিযোগকারিণীর বক্তব্য, সম্প্রতি আবার কাজের আশায় স্বরূপের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি শ্লীলতাহানির শিকার হন। শুধু তা-ই নয়, গত মার্চ মাসে তাঁর বাড়িতে কয়েক জনকে নিয়ে চড়াও হওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ওই মহিলা। তাঁর দাবি, অস্ত্র নিয়েও হামলার চেষ্টা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নিউ আলিপুর থানার পুলিশ তদন্তে নামে এবং বৃহস্পতিবার রাতে স্বরূপকে গ্রেফতার করে।

টলিপাড়ার একাংশের দাবি, বহুদিন ধরেই স্বরূপ এবং তাঁর দাদা অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) প্রভাব নিয়ে শিল্পীমহলে অসন্তোষ ছিল। অভিযোগ ছিল, সেই প্রভাব খাটিয়েই চলচ্চিত্র জগতের নানান ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করা হয়েছিল। যদিও এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কম মানুষই মুখ খুলেছিলেন।

স্বরূপের গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টলিউডের বহু অভিনেতা, অভিনেত্রী ও কলাকুশলীর মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে বলে শিল্পীমহলের একাংশের দাবি। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন। তবে মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। অভিযোগের সত্যতা আদালতেই বিচার হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।