আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাকিস্তানের সেনা ছাউনি এবং সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে এবং এই অপারেশন সফল। আমেরিকায় তৈরি যুদ্ধবিমান এফ-১৬ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করে কাবুল।

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : গত রবিবার পকিস্তানি হামলার পালটা দিতে বৃহস্পতিবার রাতে পাক সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ আফগানিস্তান ফৌজের। পাকিস্তানের অন্তত ১২টি পোস্ট আফগানিস্তানের দখলে এসেছে বলেও দাবি তালিবান প্রশাসনের। এদিকে পাকিস্তানের মতে, কান্দাহারের উপর দিয়ে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলির টহল জারি। গত বছর সেপ্টেম্বরে, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর চার মাস পরে সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল পাকিস্তান। পারস্পরিক কৌশলগত সেই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছিল, স্বাক্ষরকারী কোনও দেশের বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের আগ্রাসন দুই দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসাবে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে আফগান সেনা। তার জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা করেছে। দু’পক্ষের অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্ত মনে করিয়ে সৌদির সাহায্য কি চাইবে পাকিস্তান? জারি জল্পনা। কোনও দেশের পক্ষেই প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রসঙ্গ প্রকাশ্যে উত্থাপন করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাধিক রিপোর্টে দাবি, কাবুল-সহ আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ঘাজ়াব লিল হক’।

দুই দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই আফগানিস্তানের এক সরকারি নিউজ এজেন্সির রিপোর্টে উঠে আসে ফিদায়েঁ যোদ্ধাদের ব্যাটেলিয়ানের একটি ছবি । যেখানে দেখা যায়, বিস্ফোরক বোঝাই জ্যাকেট পরে রয়েছে ফিদায়েঁ যোদ্ধারা। নিরাপত্তাবাহিনীর সূত্রের দাবি করে ওই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নির্দেশ পেলেই গাড়ি বোমা ও গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানাগুলিতে আত্মঘাতী হামলা চালাতে প্রস্তুত এই যোদ্ধারা। পাশাপাশি তালিবানের অন্যতম মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত জানান, ডুরান্ড লাইন অর্থাৎ পাকিস্তানের সঙ্গে লাগোয়া বিতর্কিত সীমান্ত এবং খোস্ত প্রান্তে জবাবি হামলা শুরু হয়েছে।

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে শুক্রবার সকাল থেকেই পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফ থেকে দাবি করা হয় তাঁরা পাকিস্তানের ভিতরে বেশ কিছু সেনা ছাউনিতে আঘাত হেনেছে। একইসঙ্গে, তাঁদের দাবি স্থানীয় সময়ে আজ সকাল ১১টা নাগাদ পাক রাজধানী ইসলামাবাদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ফৈজাবাদ, নৌশেরা, জামরুদ অ্যাবটোবাদ-সহ একাধিক জায়গায় বিমান হামলা চালানো হয়। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার, এবং পাকটিয়ায় পাক সেনার বিমান হামলার জবাবেই পাল্টা হামলা চালিয়েছে তাঁরা।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে পাক-আফগান সীমান্ত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতে পাকিস্তানে হামলা শুরু করে আফগান বাহিনী। পাক বিমানহানার প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা বলে দাবি করা হয়। আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাকিস্তানের সেনা ছাউনি এবং সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এবং এই অপারেশন সাফল্য পেয়েছে। আমেরিকায় তৈরি যুদ্ধবিমান এফ-১৬ পাকিস্তানের বায়ুসেনার অন্যতম সম্পদ। সেই যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করে কাবুল। প্রমাণ হিসাবে ভিডিয়োও প্রকাশ করা হয়। যদিও এই বিষয়ে এখনও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান, দুই দেশই ইরানের সীমান্ত লাগোয়া। ফলে দুই পড়শির মধ্যে বিবাদ মেটাতে তৎপর হয়েছে পশ্চিম এশিয়ার দেশ। রমজান মাস চলছে। এই পবিত্র সময়ে সংঘর্ষ কাম্য নয় বলেও ইরানের বিদেশমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন। সমাজমাধ্যমে ইরানের বিদেশমন্ত্রী লেখেন, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানকে আলোচনায় বসাতে, তাদের মধ্যে সহযোগিতা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও সহায়তা করতে ইরান প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার সকালে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সমাজমাধ্যমে জানান, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে যে কোনও সাহায্যে ইরান প্রস্তুত। কিন্তু পাকিস্তান অন্য দেশের সঙ্গে কথা বলছে। পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার যোগাযোগ করেন সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে। এই দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের পারস্পরিক কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। দুই দেশকে সংযত হওয়ার বার্তা দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জও।