আদালত-নিযুক্ত বিচারপতি এসপি তালুকদার কমিটির হেফাজতে থাকা সম্পত্তি কীভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : চিটফান্ড কেলেঙ্কারির জেরে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি দ্রুত নিলামে তুলে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর নির্দেশ বারবার দিয়েছে হাইকোর্ট। অথচ সেই সম্পত্তিই একের পর এক বেহাত হওয়ার অভিযোগ উঠছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। আদালত-নিযুক্ত বিচারপতি এসপি তালুকদার কমিটির হেফাজতে থাকা সম্পত্তি কীভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।
মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার মথুরাপুর এলাকায় র্যামেল চিটফান্ডের বাজেয়াপ্ত ৭২ বিঘা জমি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক। অভিযোগ, ওই জমি প্লট কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু প্লট হাতবদল হয়েছে। এরই মধ্যে সেই জমির মাঝখান দিয়ে সরকারি ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের পাকা রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।
চিটফান্ড সংস্থার আমানতকারীদের পক্ষে আইনজীবী অরিন্দম দাস এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন হাইকোর্ট গঠিত তালুকদার কমিটিকে। তাঁর বক্তব্য, আদালতের হেফাজতে থাকা জমি একদিকে প্লট কেটে বিক্রি চলছে, অন্যদিকে সরকারি প্রকল্পে রাস্তা তৈরি হচ্ছে— যা সম্পূর্ণ বেআইনি। অবিলম্বে ওই জমি দখল ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করতে জেলা পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে চিঠিতে।
এর আগেও জঙ্গিপুর ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় চিটফান্ডের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৩ সালের পর থেকে রাজ্যে একের পর এক চিটফান্ড সংস্থার বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কোনওটি ইডির হেফাজতে, কোনওটি সেবির নিয়ন্ত্রণে। আবার কিছু সম্পত্তি রয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে তালুকদার কমিটির হাতে।
সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বারবার নির্দেশ দিয়েছে, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি দ্রুত বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে হবে। কিন্তু অভিযোগ, সরকারি জটিলতা ও লাল ফিতের ফাঁসে বহু সম্পত্তি আজও বিক্রি হয়নি। নজরদারির অভাবে তারই সুযোগ নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা— স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদতে দখল ও বেচাকেনা চলছে বলে অভিযোগ।
ফলে বছরের পর বছর ধরে ক্ষতিপূরণের আশায় থাকা আমানতকারীরা আরও বঞ্চিত হচ্ছেন। আইনজীবী অরিন্দম দাসের প্রশ্ন, “আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সম্পত্তি বিক্রি না হওয়া এবং দখল হয়ে যাওয়ার দায় কার ?”