ম্যাজিক ফিগারের অঙ্কের গেরোতেই বারবার আটকা পড়ছেন বিজয়।

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : দক্ষিণের রাজনীতিতে এখন একটাই অঙ্ক। ১০৮ থেকে ১১৮। আর সেই অঙ্ক মেলাতেই যেন হিমশিম খাচ্ছেন থালাপতি বিজয়। জনতার বিপুল সমর্থন পেয়েও এখনও কুর্সি অধরা। তাই তামিলনাড়ুর রাজনীতি এখন যেন এক টানটান নাটক। যেখানে প্রতি মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে চিত্রনাট্য, পাল্টে যাচ্ছে সমীকরণ। কখনও সমর্থনের চিঠি, কখনও জাল সইয়ের অভিযোগ, কখনও আবার রিসোর্ট পলিটিক্স। ম্যাজিক ফিগারের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
তামিলনাড়ুতে অচলাবস্থা কেটেও যেন কাটল না। আসনের নিরিখে বৃহত্তম দল হলেও এখনও সরকার গড়তে পারেনি টিভিকে। রাজ্যপালের সঙ্গে টানাপোড়েন অব্যাহত তারকা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের। সেই আবহেই বিজয়ের দশম শ্রেণির মার্কশিট ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা যায়, ১১০০-র মধ্যে ৭১১ পেয়েছেন তিনি। সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছেন তামিল ভাষায়। স্কুলজীবনে অঙ্কে বিজয় বেশ দুর্বল ছিলেন বলেই দেখা যাচ্ছে ভাইরাল হওয়া মার্কশিটে। ২০০-র মধ্যে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৯৫। সেই অঙ্কের গেঁরোয় ঝুলে রয়েছে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রীত্ব লাভ। ম্যাজিক ফিগারের অঙ্কের গেরোতেই বারবার আটকা পড়ছেন বিজয়। দুই বছর আগে দল গড়ে, এবারের প্রথম নির্বাচনেই যে বিপুল জনসমর্থন পেয়েছেন, তা অকল্পনীয়। ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জয়ী হয়েছে বিজয়ের দল। তবে সরকার গড়ার জন্য ম্যাজিক ফিগার হল ১১৮। এই ১০ আসনের গেরোতেই যাবতীয় সমস্যা।
শুক্রবার দিনভর নাটকীয়তার পর জানা যায়, ১১৮জন বিধায়কের সই সংগ্রহ করতে পেরেছেন বিজয়। কংগ্রেস ছাড়াও সিপিআই, সিপিআইএম ও ভিসিকে দল টিভিকে সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগও সমর্থন জানায়। কংগ্রেসের ৫ জন, সিপিআই ও সিপিএম মিলিয়ে ৪ জন এবং এএমএমকে-র ১ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠিও জমা দেন।এই দাবি অনুযায়ীই যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু হয় বিজয়ের সরকার গঠন ও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার। এখানেও নাটকীয়তা বজায় থাকে। বিজয় শনিবার বেলা ১১টায় শপথ গ্রহণের সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই এএমএমকে-এর সাধারণ সম্পাদক টিটিভি ধিনাকরণ রাজ্যপালকে ফোন করে খেলা ঘুরিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজয়ের পক্ষে জমা দেওয়া এএমএমকে-এর একমাত্র বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা রয়েছে। এরপরই টিভিকে ওই বিধায়ক কামরাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি বলে জানা যায়। এর ঠিক এক ঘণ্টার মধ্যেই কামরাজ চেন্নাইয়ে প্রকাশ্যে আসেন। ধিনাকরণের সঙ্গে তিনি রাজ্যপালের কাছে যান। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন টিভিকে ঘোড়া কেনাবেচা বা বিধায়ক ভাঙানোর চেষ্টা করছে। সেখানেই কামরাজ দাবি করেন, টিভিকে-এর জমা দেওয়া স্বাক্ষর তাঁর নয়। ধিনাকরণ আরও জানান, এএমএমকে দৃঢ়ভাবেই এনডিএ-এর সঙ্গেই রয়েছে।
বাইটঃ কামরাজ
ভিওঃ ভোটের ফল বেরনোর পর কেটে গেছে পাঁচটা দিন। এখনও পর্যন্ত সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা অব্যাহত রয়েছে। কারণ, সবথেকে বেশি আসন পাওয়া অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে এখনও চূড়ান্ত ম্যাজিক-ফিগার দেখিয়ে উঠতে পারেনি রাজ্যপালের কাছে। তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক নাটক এখানেই থামেনি। লোক ভবনের সূত্রে জানা যায়, ডিএমকে জোটের অংশ ভিসিকে এখনও পর্যন্ত রাজ্যপালের কাছে কোনও সমর্থনের চিঠি জমা দেয়নি। তামিলনাড়ুতে অচলাবস্থা কেটেও যেন কাটছে না। শনিবারও বিজয়ের শপথের অনুমতি দেন না রাজ্যপাল আরলেকর। তিনি এখনও নিশ্চিত নন যে বিজয়ের হাতে ১১৮ বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। ফলে শনিবার যে শপথগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল সেটা হল না।
সূত্র মারফত উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চিরশত্রু ডিএমকে ও এআইডিএমকে জোট বেঁধে তামিলনাড়ুতে ফের দ্রাবিড় দলের সরকার গঠনের চেষ্টায় উদ্যোগী হয়েছে। যা বিজয় শিবিরে উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে শুরু হয়েছে রিসোর্ট পলিটিক্সও। কংগ্রেস নিজেদের পাঁচ বিধায়ককে নিরাপদে রাখতে বেঙ্গালুরুতে পাঠিয়ে দিয়েছে। শুক্রবার রাতেই পাঁচ কংগ্রেস বিধায়ক চলে যান কর্নাটকের রাজধানীতে।
ভিওঃ তামিলনাড়ুর কুর্সির অঙ্ক এখনো মেলেনি। ম্যাজিক ফিগারের খাতা খুললেই কোথাও না কোথাও থেকে যাচ্ছে ভুলের দাগ। যে বিজয়কে ঘিরে জনতার উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে, সেই বিজয়ই আজ সংখ্যার খেলায় আটকে। রাজনীতির এই নাট্যমঞ্চে এখন প্রতিটি ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ। কে কার পাশে থাকবে, কে শেষ মুহূর্তে হাত ছাড়বে। সেই অঙ্কেই নির্ভর করছে তামিলনাড়ুর আগামী সরকার। আর সেই কারণেই দক্ষিণের রাজনীতি এখন যেন এক টানটান থ্রিলার। যেখানে ক্লাইম্যাক্স এখনও বাকি।