হায়দরাবাদের গোশামহল বিধানসভা কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হয়েছে। ভুয়ো তথ্য দিয়ে একসঙ্গে একাধিক ফর্ম ৭ জমা দিয়ে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াইসি জানান, গত ৫ অক্টোবর তেলেঙ্গানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। সেখানে গোশামহল-সহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকদের (ERO) কাছে একসঙ্গে বহু ফর্ম ৭ জমা পড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ওই আবেদনগুলির অনেকগুলিই ‘ভুয়ো’ বলে সন্দেহ করা হয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩১ নম্বর ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, ভোটার নিবন্ধন বিধির ২০ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ওয়াইসির।
এই নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতেই গোশামহলের ২৮ নম্বর বুথের একটি নির্দিষ্ট ঘটনা সামনে এনেছেন AIMIM প্রধান। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ১২২ জনের নাম বাদ দেওয়ার জন্য আগে থেকেই ছাপানো ফর্ম ৭ জমা দেওয়া হয়েছিল। ওই ফর্মগুলিতে আবেদনকারীর নাম হিসেবে তুডু মূর্তি জনার্ধনের নাম এবং ফোন নম্বর দেওয়া ছিল। ওয়াইসির অভিযোগ, ১২২ জনের প্রত্যেকেই মুসলিম এবং তাঁদের নাম ২০০২ সাল থেকে ভোটার তালিকায় রয়েছে। এমনকি সাম্প্রতিক খসড়া ভোটার তালিকাতেও তাঁদের নাম ছিল।
ওয়াইসি উদাহরণ হিসেবে ৮৫ বছরের মির্জা ফারুক বেগের নামও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের নামও ভুয়ো ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
AIMIM প্রধানের দাবি, নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ভুয়ো ফর্মগুলি আটকে দেওয়ায় ২৮ নম্বর বুথের সতর্ক বুথ লেভেল অফিসারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ভোটার তালিকা নিয়ে এমন অভিযোগ ঘিরে তেলঙ্গানায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।