কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা গেল দিল্লি হাইকোর্টে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: নিট-ইউজির পুনরায় পরীক্ষার আগে ভারতে টেলিগ্রাম অ্যাপের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম। সংস্থার দাবি, কয়েক দিনের জন্য পরিষেবা বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্তে লক্ষ লক্ষ বৈধ ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যা অসঙ্গত এবং অযৌক্তিক। বুধবারই জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি হওয়ার কথা বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে।
প্রসঙ্গত, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে এ বছরের নিট-ইউজি পরীক্ষা বাতিল করেছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। আগামী ২১ জুন পুনরায় সেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনটিএ কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ জানায়, যাতে ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের পরিষেবা ভারতে সীমিত করা হয়। সেই সুপারিশ মেনেই তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৯এ ধারার আওতায় মঙ্গলবার টেলিগ্রামের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্র।
এনটিএ-র দাবি, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, বরং প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত ভুয়ো দাবি, বিভ্রান্তিকর বার্তা এবং টুকলি চক্রের কার্যকলাপ রোধ করা। সংস্থার ডিরেক্টর অভিষেক সিং জানিয়েছেন, “পরীক্ষা যাতে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনও রকম অনিয়মের সুযোগ রাখা হবে না।”
কেন্দ্রের মতে, টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল এবং গ্রুপকে ব্যবহার করে অতীতে প্রশ্নফাঁসের ভুয়ো দাবি ছড়ানো হয়েছে, যা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। সেই কারণেই পরীক্ষার আগে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ। সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল দুরভ মঙ্গলবারই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েক জনের অপব্যবহারের জন্য ১৫ কোটিরও বেশি ভারতীয় ব্যবহারকারীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, কোনও প্ল্যাটফর্মকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিলে তথ্য ফাঁস বা গুজব রটানো বন্ধ হয় না, বরং তা অন্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, টেলিগ্রামকে ঘিরে অতীতেও নানা বিতর্ক সামনে এসেছে। বেআইনি আর্থিক লেনদেন, জুয়া পরিচালনা এবং ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে ২০২৪ সালে কেন্দ্র তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। একই বছরে ফ্রান্সে আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেফতারও করা হয়েছিল দুরভকে, যদিও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এখন দিল্লি হাই কোর্টের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ, পরীক্ষার্থী এবং প্রযুক্তি মহল। কারণ, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং পরীক্ষা নিরাপত্তা— দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।