একশ্রেণীর লোক বেআইনিভাবে দখল করে জলাশয়ে মাছ চাষ করছে এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করছে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার বেগমপুর ২০০ কলোনি এলাকায় একটি সরকারি জলাশয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও দখলকারীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২০০ কলোনির পিয়ালী থেকে উত্তরভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত এই জলাশয়টি একসময় নদী হিসেবে পরিচিত ছিল এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা এর নামকরণ করেছিলেন ‘প্রফুল্ল সরোবর’। বর্তমানে নদীটি সংকুচিত হলেও বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা দৈনন্দিন কাজের জন্য এই জলাশয়ের জল ব্যবহার করে আসছেন।
অবৈধ দখলদারিত্বের অভিযোগ: গ্রামবাসীদের দাবি, একসময় নদী হিসেবে থাকা এই ‘প্রফুল্ল সরোবর’ বর্তমানে একশ্রেণীর লোক বেআইনিভাবে দখল করে মাছ চাষ করছে এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করছে।
বুধবারের (১৬ই সেপ্টেম্বর) ঘটনা: গত বুধবার ১৬ই সেপ্টেম্বর কলোনির বাসিন্দারা ওই জলাশয়ের জল ব্যবহার করতে গেলে দখলকারীরা তাদের নামতে বাধা দেয়। এই নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে দখলকারীরা গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এর ফলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
প্রতিরোধ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ: ঘটনার প্রতিবাদে কলোনির বাসিন্দারা একজোট হয়ে সোচ্চার হন এবং সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে বারুইপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবারে পরিস্থিতি ও পুলিশি পদক্ষেপ
ঘাট ভাঙচুর ও মাছ ধরা: বৃহস্পতিবার সকালে দখলকারীরা জলাশয়ে মাছ ধরার জন্য জাল ফেলে। অভিযোগ, মাছ ধরার সুবিধার্থে এবং গ্রামবাসীদের জলাশয়ে নামা চিরতরে বন্ধ করতে গ্রামবাসীদের নিজেদের তৈরি করা ঘাট বা সিঁড়িটি দখলকারীরা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
পুলিশের ঘটনাস্থলে আগমন ও আটক: সিঁড়ি ভাঙা ও জাল ফেলে মাছ ধরার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তৎক্ষণাৎ বারুইপুর থানায় খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই বারুইপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মাছ ধরার জালসহ বেশ কয়েকজন মৎস্যজীবীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
গ্রামবাসীদের প্রধান দাবিসমূহ
১. সরকারি জলাশয়ের অধিকার: ‘প্রফুল্ল সরোবর’ একটি সরকারি জলাশয়; তাই এটি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচ্ছত্র দখলেই থাকতে দেওয়া যাবে না। স্থানীয় সকল গ্রামবাসী যাতে নির্বিঘ্নে এই জলাশয়ের জল ব্যবহার করতে পারেন, তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
২. ক্ষতিপূরণ ও ঘাট পুনর্নির্মাণ: দখলকারীরা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রামবাসীদের সুবিধার্থে তৈরি সিঁড়ি বা ঘাটটি ভেঙে ফেলেছে। তাই অবিলম্বে সেই সিঁড়ি সরকারি বা প্রশাসনিক উদ্যোগে নতুন করে পুনর্নির্মাণ করে দিতে হবে।
৩. বেআইনি দখলমুক্তকরণ: এলাকার জলাশয়টি যাতে কোনোভাবেই বাণিজ্যিক বা ব্যক্তি স্বার্থে বেআইনিভাবে দখল না করা হয়, সে ব্যাপারে স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।