ভোট ঘোষণা হওয়ার আগেই উত্তপ্ত দক্ষিণ হাওড়ার পাঁচপাড়া। বিজেপির পতাকা খোলার প্রতিবাদ করায় বিজেপি নেত্রীকে মারধরের অভিযোগ।

রণজিৎ রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনা। অভিযোগ, দক্ষিণ হাওড়ার পাঁচপাড়া পঞ্চায়েতের নিমতলা শিবমন্দির সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির দলীয় পতাকা খুলে ফেলা হল। পতাকা খোলার প্রতিবাদ করায় এক বিজেপি নেত্রীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। হামলায় তিনি রক্তাক্ত হন এবং তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছেলের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ ওই এলাকায় তৃণমূল কর্মী অমিত দাস (৪২) বিজেপির পতাকা খুলে ফেলছিলেন বলে অভিযোগ। তা দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করেন বিজেপির দক্ষিণ হাওড়া ৩ নম্বর মণ্ডলের শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ মালবিতা দাস (৪৫)। অভিযোগ, এরপরই অমিত দাস তাঁকে মারধর করেন। হামলায় তিনি রক্তাক্ত হন বলে দাবি।
মালবিতা দেবীর ছেলে প্রীতম দাস (২১), যিনি ওই মণ্ডলের যুব সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গিয়েছে, মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আহত মা ও ছেলেকে চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ হাওড়া ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসার পর তাঁরা অভিযোগ জানাতে সাঁকড়াইল পুলিশ স্টেশন-এ গেলে, অভিযোগ না নিয়ে উল্টে দক্ষিণ হাওড়া বিজেপি ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি রবিন পাল ও মালবিতা দেবীর দেওর সোমনাথ দাসকে গ্রেফতার করে রাখা হয় বলে দাবি বিজেপির। যদিও পুলিশের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনার পরের দিন শুক্রবার সাঁকড়াইল থানার সামনে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অমিত দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিজেপি নেত্রীর দাবি। একইসঙ্গে মণ্ডল সভাপতিকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করেন বিজেপি কর্মীরা। এসময় থানার আইসি বিশ্বজিৎ মণ্ডলের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে জানা গিয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, গতকালের ঘটনায় পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত না করে উল্টে তাঁদের মণ্ডল সভাপতি ও পরিবারের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের দাবি, পুলিশের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।