২০২৬ সালের বাজেট প্রত্যাশা

২০২৬ সালের বাজেট : মধ্যবিত্তদের স্বস্তি এবং বিকশিত ভারতের ভারসাম্য বজায় রাখার বাজেট।

আরপ্লাস ডিজিটাল ডেস্ক:  ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-২৭-এর বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের আর্থিক বৃদ্ধিকে মজবুত করাটাই এই বাজেটের লক্ষ্য। এবারের বাজেটও একঘেঁয়ে এবং ভবিষ্যতে একরাশ উন্নয়নের অঙ্গীকার থাকবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যেখানে জনতাকে উপহার দেওয়ার চেয়ে আর্থিক একত্রীকরণ এবং অর্থনৈতিক পরিকাঠামো স্থিতীশীল করার জন্য প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। যদিও দেশের মধ্যবিত্তদের জন্য স্বস্তিকর হতে চলেছে এই বাজেট। কারণ এটি ব্যায়যোগ্য আয় বৃদ্ধি করে জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করবে।

উৎপাদন এবং কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা- স্বনির্ভরতা এবং মেক ইন ইন্ডিয়ার প্রক্রিয়া চলছে। যার মধ্যে প্রোডাকশন লিংকড ইনসেন্টিভ এবং এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং স্কিল বিল্ডিং সেন্টার বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলেই মেক ইন ইন্ডিয়াকে শক্তি জোগানো হবে।

সবুজ শক্তি- পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, শক্তি সঞ্চয় এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপক পরিকাঠামো বিনিয়োগের লক্ষ্যের প্রতি অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে।

রাজস্ব বিচক্ষণতা- রাজ্যস্ব একত্রীকরণের জন্য একটি অগ্রগতির পথ অব্যাহত থাকে। ২০২৭ অর্থবর্ষে জিডিপির প্রায় ৪.৩ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বাজারের স্থিতিশীলতা এবং বিদেশী বিনিয়োগের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।

মধ্যবিত্তের প্রত্যাশা- বাড়ি তৈরি বা ভাড়া, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সমস্ত খাতে রোজকার জীবনযাত্রার খরচ যে হারে বাড়ছে, তাতে করে লক্ষ লক্ষ বেতনভোগী রয়েছেন। তাঁরা যাতে হাতে আরও বেশি টাকা পান, এটাই প্রাথমিক উদ্বেগ সরকারের। গতবছর সরকার নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ মকুব করে বিরাট স্বস্তি দিয়েছে। তবে এবার মধ্যবিত্তরা আরও কিছু পরিবর্তনের আশা করছেন।

উল্লেখযোগ্য বাজেট প্রত্যাশা – সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বাজেট প্রত্যাশা হল নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে বেতনভোগী কর্মচারি এবং পেনশনভোগীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন- ৭৫,০০০ থেকে কমপক্ষে ১ লক্ষ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা। এটি সরাসরি টেক হোম স্যালারি বৃদ্ধি করবে। এর ফলে মানুষের খরচও বৃদ্ধি হবে।

গৃহঋণে স্বস্তি- সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের গৃহঋণের সুদের উপর ডিডাকশন লিমিটকে অন্তত ৩ লক্ষ বা ৪ লক্ষ টাকা করা হোক। নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে এমনই সব জোরালো দাবি উঠতে শুরু করেছে।

সরলীকরণ এবং স্পষ্ট বাজেট – নতুন ২০২৫ আয়কর আইন, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হচ্ছে। করদাতাদের আশা যে এই বাজেট একটি সেতু হিসেবে কাজ করবে। সহজ ভাষা, কম আইটিআর ফর্ম এবং যুক্তিসঙ্গত টিডিএস হারের মাধ্যমে মসৃণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। যাতে বিভ্রান্তির বোঝা কমানো যায়।

স্বাস্থ্য এবং অবসরকালীন সঞ্চয়- ৮০ ডি ধারার অধীনে স্বাস্থ্য বিমা প্রিমিয়ামের উপর বর্ধিত ছাড়ের দাবিও রয়েছে বহু মানুষের। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এবং জাতীয় পেনশন ব্যবস্থার মতো দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের জন্য ইনসেন্টিভের দাবি ক্রমশ বাড়ছে।

সবমিলিয়ে সরকার আর্থিক পরিকাঠামোগত সংস্কার এবং রাজস্ব শৃঙ্খলার উপর জোর দেবে করে আশা করা হচ্ছে। তবে এই দাবিগুলির বাস্তবায়ন করে সরকার মানুষের ব্যায়যোগ্য আয়ের বৃদ্ধি করলেই মধ্যবিত্তের দৃষ্টিতে তা হবে ২০২৬ সালের সফল বাজেট