১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে জমছে জল। বাড়ছে দুর্ঘটনা। পরিদর্শনে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য প্রশাসন।

সুভাষ দাস, নিজস্ব সংবাদদাতা : কোথাও হাঁটুসমান জল জমে থাকা সার্ভিস রোড, কোথাও আবার ছোট উড়ালপুল। সব মিলিয়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক যেন নিত্যদিনের দুর্ভোগের নাম। দুর্ঘটনা, যানজট আর ক্ষোভ বিক্ষোভ যেন লেগেই রয়েছে। দুর্গাপুরের কাঁকসার রাজবাঁধ থেকে গোপালমাঠ পর্যন্ত সার্ভিস রোড কার্যত মরণফাঁদ। বর্ষা এলেই জল জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে সার্ভিস রোড। অথচ এটিই শিল্পাঞ্চলের ব্যস্ততম রাস্তা। তার উপর মুচিপাড়ায় থাকা ছোট উড়ালপুল যেন পরিকল্পনার চূড়ান্ত ব্যর্থতার নমুনা। বীরভূম দিক থেকে আসা বড় গাড়ি ওই উড়ালপুলের নীচ দিয়ে যেতে গিয়ে আটকে পড়ে। চার কিলোমিটার ঘুরে আবার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে উঠতে বাধ্য হয় যানবাহন। বাড়ে যানজট, বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার ‘খোঁচা’ দেয় ট্রাফিক ও আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ। অবশেষে চাপের মুখে নড়েচড়ে বসেন জাতীয় সড়কের আধিকারিকরা। ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত ও ট্রাফিক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে নামেন জাতীয় সড়কের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর প্রমোদ কুমার। জল জমে থাকা সার্ভিস রোড ঘুরে দেখেন। চোখে দেখে সমস্যার কথা শোনেন।

কীভাবে সমাধান হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়। জাতীয় সড়কের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর প্রমোদ কুমার বলেন,”এডিডিএর চেয়ারম্যানের সাথে আমরা পরিদর্শন করেছি। আমাদের মূল নজর ছিল নিকাশি ব্যবস্থার ওপর। যা জাতীয় সড়কের অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে গেছে। আশেপাশের এলাকার জল, এমনকি কিছু শিল্পকারখানা, দোকানপাট এবং সার্ভিস সেন্টারের জলও আমাদের জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোডে এসে পড়ছে। এর ফলে রাস্তা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা পরিষ্কার করার চেষ্টা করলেও তা কোনও কাজে আসছে না। কারণ জলের তোড় খুব বেশি। সার্ভিস রোড দিয়ে ভারী গাড়ি চলাচল করতে পারে, তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যেখানে রাজ্য সরকারের রাস্তা জাতীয় সড়কের সাথে যুক্ত করেছে। সেই জংশনটি সঠিকভাবে তৈরি করা হয়নি। ফলে গাড়ি ঘোরাতে সমস্যা হচ্ছে। আড্ডা চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে, তাঁরা দেখবেন কীভাবে এই টার্নিং পয়েন্ট বাড়ানো যায়। এটা কবে ঠিক হবে বা কতদিন লাগবে তা আড্ডা এবং পিডব্লিউডি বলতে পারবে। এতে এনএইচএআই-এর বিশেষ কিছু করার নেই।” এ বিষয়ে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত বলেন,”অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শীতকালেও জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোডের অনেক জায়গায় জল জমে রয়েছে। ফলে যাতায়াতের সমস্যা হচ্ছে। মূল সমস্যাটা হল নিকাশি নালা বন্ধ হয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের অসচেতনতার জন্য এই ঘটনা ঘটছে। আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান ব্যবস্থা করব আমরা।”