কমিশনের কড়া নির্দেশ মেনে অভিযান প্রশাসনের

নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে পাথরপ্রতিমায় প্রশাসনের অভিযানে সরগরম: নামছে সব রাজনৈতিক পতাকা-ব্যানার।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : পাথরপ্রতিমা এলাকায় নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ মেনে প্রশাসন শুরু করল বড়সড় অভিযান। থানা আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একযোগে খুলে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।
সূত্রের খবর, নির্বাচন আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এলাকাজুড়ে বেআইনি রাজনৈতিক প্রচারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, পাথরপ্রতিমা থানার উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
এই অভিযানে শুধু পুলিশই নয়, ভিডিও অফিসের বিভিন্ন কর্মীদেরও কাজে লাগানো হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে নথিবদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিতর্ক তৈরি হলে তার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রশাসনের এই স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে যদি রাজনৈতিক পোস্টার, ফেস্টুন বা দেওয়াল লেখা করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি থাকা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এই বিষয়ে সতর্কতা দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচন এলেই এলাকা জুড়ে যেভাবে ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে যায়, তাতে পরিবেশেরও ক্ষতি হয় এবং সাধারণ মানুষের অসুবিধা বাড়ে। তাই প্রশাসনের এই উদ্যোগে এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান যে আসন্ন নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেবে, তা বলাই বাহুল্য।
সব মিলিয়ে, পাথরপ্রতিমায় প্রশাসনের এই অভিযান শুধু নিয়ম প্রয়োগের উদাহরণই নয়, বরং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।