২০০ জন মুসলিমকে বিজেপিতে যোগদান

মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ রাজ্যে বাবরি মসজিদ স্থাপন বিতর্কের মাঝেই এবার ২০০ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে দলে যোগদান করিয়ে বাবরের ধ্বজাধারীদের পিছনে লাথ মেরে দেশ থেকে তাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা। বুধবার রাতে বাঁকুড়ার সার্কিট হাউস মোড়ে বিজেপির একটি দলীয় কর্মসূচীতে যোগ দিয়ে বাঁকুড়া বিধানসভা এলাকার প্রায় ২০০ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে দেন রাহুল সিনহা। তারপর তাঁদের সঙ্গে নিয়েই বাবরের ধ্বজাধারী ও অনুপ্রবেশকারীদের দেশ ছাড়া করার হুঁশিয়ারি দেন রাহুল সিনহা। তৃনমূলের দাবি যোগদানকারীরা কেউই এলাকার বাসিন্দা নয়। রাজ্য নেতৃত্বকে দেখানোর উদ্যেশ্যে তাঁদের বাইরে থেকে এনে যোগদান করানো হয়েছে। একই সঙ্গে তৃনমূলের দাবি মন্দির মসজিদ স্থাপন ও ধর্মাচরণের অধিকার সকলেরই রয়েছে। সেক্ষেত্রে রাহুল সিনহার এই বক্তব্য অসাংবিধানিক।

মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাবরি মসজিদ স্থাপন নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। সেই আবহের মাঝেই গতকাল রাতে বাঁকুড়ার সার্কিট হাউস মোড়ে বিজেপির একটি দলীয় কর্মসূচীতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় ২০০ জন মানুষ। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তাঁদের হাতে শুধু দলীয় পতাকাই তুলে দিয়েছেন তাই নয়, তাঁদের পাশে নিয়ে তিনি হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ” এদেশ বাবরের, দালালদের দেশ নয়। তাই বাংলাদেশ, মায়ানমার বা আরব থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের এদেশে ঠাঁই হবে না। বাবরের ধ্বজাধারীদের পিছনে লাথ মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হবে”। পরে নিজের বক্তব্যের সমর্থনে রাহুল সিনহা বলেন, মুসলিমরা দলে দলে বিজেপিতে যোগদান করছে। আগামীতে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। বাবরের ধ্বজাধারীদের হয় বাবরের নাম ছাড়তে হবে, নাহলে এই বাংলা তথা এই দেশ ছাড়তে হবে”। রাহুল সিনহার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তৃনমূলের দাবি এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো মানুষই বিজেপিতে যোগ দেননি। আর তাছাড়া এদেশে মন্দির মসজিদ স্থাপন ও নিজের নিজের ধর্মপালনের অধিকার সকলের আছে। তাই রাহুল সিনহার এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বাবরি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবির ৷

মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের এই নেতাকে অবিলম্বে মসজিদ নির্মান বন্ধের নির্দেশ দিক কলকাতা হাইকোর্ট ৷ এই আর্জিতে বুধবার জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল রাজ্যের উচ্চ আদালতে ৷ আগামী সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে ৷মামলাকারীর বক্তব্য, বাবরি মসজিদ এই নামটির সঙ্গে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ-রামজন্মভূমি বিতর্ক জড়িত ৷ এর ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট হতে পারে ৷ সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে ৷ এছাড়া হুমায়ুন জেলা প্রশাসনের অনুমতি না-নিয়ে কীভাবে এই নির্মাণের কাজ করছেন বলে প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী ৷