কার্যকর নারী সংরক্ষণ আইন, নোটিস কেন্দ্রের

বাস্তবায়ন নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকেই কার্যকর করা হল নারী সংরক্ষণ আইন।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : নারী সংরক্ষণ আইন নিয়ে লোকসভায় তুমুল বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্র জানাল, ২০২৩ সালের নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর হয়েছে ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে। তবে আইন কার্যকর হলেও, তা কবে বাস্তবে প্রয়োগ হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। কারণ, বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী এই সংরক্ষণ কার্যকর হতে গেলে আগে প্রয়োজন জনগণনা ও পরবর্তী সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন)।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সংসদে পাশ হয়েছিল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। এই আইনে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়। কিন্তু সেই সময়েই স্পষ্ট করা হয়েছিল, ২০২৭ সালের জনগণনা ও তার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে না। ফলে বাস্তবে তা ২০৩৪ সালের আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।

এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে কেন্দ্রের তরফে গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। আইন মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী আইনের অধীনে ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ থেকেই এই আইন বলবৎ হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে লোকসভায় এই আইন সংশোধনের জন্য নতুন বিল নিয়ে আলোচনা চলছে, যার লক্ষ্য ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই সংরক্ষণ কার্যকর করা।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আইন কার্যকর হলেও বর্তমান লোকসভায় তা প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। কারণ, সংরক্ষণ চালু করতে হলে নতুন করে আসন বিন্যাস প্রয়োজন, যা জনগণনা-পরবর্তী ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত। সেই কারণেই সরকার এখন এই শর্ত তুলে দেওয়ার পথ খুঁজছে।

বিরোধীরা অবশ্য এই সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের পদক্ষেপে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতা জয়ারাম রমেশ সামাজিক মাধ্যমে গেজেট বিজ্ঞপ্তির কপি পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তকে “অদ্ভুত” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সংসদে যখন সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা চলছে, তখনই আইন কার্যকর করার ঘোষণা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট— নারী সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার চাপ বাড়ছে। বিশেষত ২০২৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে আইনি জট কাটিয়ে বাস্তবে কবে মহিলারা ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।