সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪০ -র অধীনে চণ্ডীগড়কে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার ।

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : ২০১৬ সালের আগস্ট মাসেও চলেছি্ল একই চেষ্টা। কিন্তু তৎকালীন শিরোমণি অকালি দল-নেতৃত্বাধীন পঞ্জাব সরকারের তীব্র বিরোধিতার পর তা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। আবারও সেই একই রকমের পরিস্থিতির সম্মুখীন। তালিকায় মোট ১০টি বিল। তার মধ্যে নজরে ১৩১ কম সংশোধনী বিল। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪০ চণ্ডীগড়কে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকারের। শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের চাপে মাথা নত কেন্দ্রীয় সরকারের।
আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। এই অধিবেশনে যে বিলগুলি আসার কথা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল সংবিধানের ১৩১ কম সংশোধনী বিল। এই বিল পাশ করিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪০ -র অধীনে চণ্ডীগড়কে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মানে চণ্ডীগড় প্রশাসনকে অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মতোই কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। আন্দামান-নিকোবর, লক্ষদীপ, দমন-দিউ, পুদুচেরি, দাদরা ও নগরহাভেলির মতো মর্যাদা পাবে চণ্ডীগড়। অনুচ্ছেদ ২৪০-র অধীনে থাকা সমস্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিজস্ব প্রশাসক রয়েছে। কিন্তু চণ্ডীগড় পঞ্জাব ও হরিয়ানার যৌথ রাজধানী এবং পঞ্জাবের রাজ্যপাল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু এই বিল পাশ হয়ে গেলে চণ্ডীগড় রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। যা ভারতের রাষ্ট্রপতি তথা কেন্দ্রকে ওই এলাকার জন্য সরাসরি আইন তৈরির ক্ষমতাই কেবল নয়, অন্যান্য কেন্দ্রশাসিক অঞ্চলের মতো নিজস্ব প্রশাসক বসানোর সম্ভাবনাও জারি করবে।

সরকার এবারের অধিবেশনে ১০টি নতুন বিল আনবে বলে জানিয়েছে। তারই মধ্যে একটি চণ্ডীগড় সংক্রান্ত বিল। তবে সরকারের উদ্দেশ্য জানার পরেই। চন্ডীগড়কে সংবিধানের ২৪০ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় আনার প্রস্তাব ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে পঞ্জাবের রাজনীতি। সরব হয় আপ, কংগ্রেস, শিরোমণি, অকালি দলের মতো বিরোধীরা। যা নিয়ে চাপে পড়ে সরকার। বিষয়টি সামনে আসতেই বিরোধিতায় সরব হন পঞ্জাবে মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি নেতা ভগবন্ত মান।
পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ,
“ঘুরপথে নরেন্দ্র মোদী সরকার পঞ্জাবের| রাজধানী কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন | চণ্ডীগড়ের উপর যদি কারোর অধিকার থাকে তা হল পঞ্জাবের | চণ্ডীগ়ড় পঞ্জাবের ছিল, আছে, থাকবে |”
হাত শিবিরের মুখপাত্র জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, “মোদী সরকার আগে কাজ করে, পরে ভাবে | এটাই ওদের দ্রুত কাজ করার উদাহরণ | প্রথমে ঘোষণা এবং পরে চিন্তা করা |”
সরব হয়েছেন পঞ্জাবের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজাও।
চণ্ডীগড়ের বিভাজনের পর পঞ্জাবের রাজধানী হওয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে এবং কেন্দ্র বিভিন্ন চুক্তির অধীনে চণ্ডীগড়কে পঞ্জাবের রাজধানী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রতিবাদকারী নেতাদের দাবি, এই সংশোধনী পঞ্জাবের ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শেষ করার, রাজ্যের যুক্তরাষ্ট্রীয় অধিকারগুলিতে আক্রমণ করার এবং পঞ্জাবকে তার রাজধানী থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার একটি ষড়যন্ত্র। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসেও কেন্দ্র অবসরপ্রাপ্ত আমলা কেজে আলফন্সকে চণ্ডীগড়ের স্বাধীন প্রশাসক নিয়োগ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তৎকালীন শিরোমণি আকালি দল-নেতৃত্বাধীন পঞ্জাব সরকারের তীব্র বিরোধিতার পর তা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫-এ আবারও একই চেষ্টা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই মাথা নত করতে হল মোদি সরকারকে। এক সপ্তাই বাকি। তবে চন্ডীগড় সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিল নিয়ে আগামী রবিবার সরকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে প্রতিবাদের ঝড় উঠবে বলেই সমালোচনার মুখে পড়ে বিলটির বিষয়ে কিছুটা ঢোঁক গিলল সরকার।